২০১৫ সাল থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার হিসাবে সবচেয়ে সফল দল নিউজিল্যান্ড। ওই সময় থেকে ছয়টি সাদা বলের ইভেন্টের সবগুলোতে সেমিফাইনাল খেলেছে তারা, ফাইনাল তিনবার। কিন্তু তাদের ট্রফি কেবিনেট শূন্য পড়ে আছে। কিন্তু চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমন একটি গ্রুপে তারা পড়েছে, যেখানে পা হড়কালেই আগেভাগে শেষ হয়ে যাবে এই অভিযাত্রা।
প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের সামনে কঠিন পরীক্ষা। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায় ‘সি’ গ্রুপে তাদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান। সাদা চোখে দুই দলের শক্তিমত্তায় বড় ফারাক দেখা গেলেও পিচটা গায়ানার বলে কিউইদের সতর্ক না হয়ে উপায় নেই। কারণ প্রোভিডেন্সের ২২ গজ স্পিনারদের স্বর্গ। আর আফগানিস্তানের আছে স্পিনারদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ। যদিও এই পিচে উগান্ডার বিপক্ষে আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করেন তাদের পেসার ফজলহক ফারুকী।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলা তিন দলের একটি নিউজিল্যান্ড। তাই ক্যারিবিয়ান কন্ডিশনে আদর্শ প্রস্তুতি বলতে গেলে নেওয়া হয়নি তাদের। তাতে করে রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবীদের বিপক্ষে কি সংগ্রাম করতে হবে ব্যাটারদের?
প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার অন্যতম কারণ নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড় ছিল আইপিএলে। ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিয়মিত খেলে গ্লেন ফিলিপস, মিচেল স্যান্টনার ও ট্রেন্ট বোল্ট প্রস্তুত। তারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। এছাড়া ইনজুরি থেকে ফিন অ্যালেন ও ডেভন কনওয়েকে ফিরে পেয়ে শক্তি বেড়েছে তাদের। ব্যাটিং কৌশলে বৈচিত্র আনতে পারে ডান-বাঁহাতি ব্যাটারদের লাইনআপ।
স্পিনস্বর্গে নিউজিল্যান্ড যে শূন্যহাতে খেলবে তা নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্যান্টনারের বোলিংয়ের জন্য প্রিয় জায়গা। সেখানে ৫.৫০ ইকোনমি রেট ও ১৬.৮৩ গড়ে বোলিং করেছেন। গত দুটি বিশ্বকাপে আর কোনও বোলারের তার চেয়ে বেশি গড় রিলিজ পয়েন্ট (২.২৭ মিটার) নেই। রিলিজ স্পিড বৈচিত্র করার ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকাপে যে কোনও দলকে খোলসবন্দি করতে পারেন স্যান্টনার।
এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার রাচিন রবীন্দ্র ও ফিলিপসের অফস্পিন নির্ভার রাখছে নিউজিল্যান্ডকে। এছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসনের সিম বোলিং ব্ল্যাক ক্যাপদের শক্ত অবস্থানে রাখছে। এই পেস বিভাগ শুক্রবার আফগানিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ওপেনিংয়ে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান দাঁড়িয়ে গিয়ে শক্ত ভিত গড়তে চাইবেন, যেন টানা দুটি জয়ে গ্রুপে ভালো অবস্থান নেওয়া যায়।