পুরানের ছক্কার রেকর্ড, ক্যারিবিয়ানদের সামনে উড়ে গেলো আফগান দল 

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিরোপার লক্ষ্যে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে তারা। কিন্তু পরের পর্বে ক্যারিবিয়ান পাওয়ার হিটাররা যে কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না, তারই প্রদর্শনী হয়ে গেলো গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। সুপার এইট নিশ্চিত করা আফগানিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ডময় এক জয় পেয়েছে। আফগানদের ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সবগুলো ম্যাচ জিতে সুপার এইটের প্রস্তুতি সেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  

শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে বিপদেই পড়ে যায় আফগান দল। রীতিমত তাণ্ডব চালিয়েছেন নিকোলাস পুরান।। তার ৯৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ৫ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবিয়ানরা ২১৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছে। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড সংগ্রহ। এই আসরেরও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিস্ফোরক ইনিংস খেলতে ওমরজাইর চতুর্থ ওভারেই রান তুলেছেন ৩৬! সেজন্য ওমরজাইকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। অতিরিক্ত খাত থেকেই পেসার রান দিয়েছেন বেশি। পুরান আবার এই ইনিংস গড়ার পথে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন। এতদিন সেটির দখলে ছিলেন ক্রিস গেইল। গেইল সর্বমোট ১২৪টি ছক্কা মেরেছেন। পুরান মেরেছেন ১২৮টি!

দ্বিতীয় ওভারে ব্র্যান্ডন কিং (৭) ফিরলে মাঠে নামেন পুরান। তার পর থেকেই শুরু পুরানের তাণ্ডব। তার বারুদে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই আসে এক উইকেটে ৯২। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ৬ ওভারে সর্বোচ্চ! সঙ্গী জনসন চার্লসও কম ছিলেন না। ২৭ বলে ৮ চারে ৪৩ রান করেছেন। মূলত এই জুটিটাই বড় স্কোরের ভিত গড়েছে। ৩৮ বলে যোগ করেছে ৮০ রান! চার্লস দলের ১০২ রানে ফিরলেও পুরানের ব্যাটই ক্যারিবিয়ানদের পাহাড়ে তুলেছে। এই সময় তার সঙ্গী হন শাই হোপ ও অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। হোপ ১৭ বলে ২ ছক্কায় ২৫ আর পাওয়েল ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রান করেছেন। ততক্ষণে দুইশর কাছেও চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুর্ভাগ্য দলটাকে দুইশ ছাড়া করেও শতরানের কাছে থেকে পুরান আউট হয়েছেন। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৬ চার ও ৮ ছক্কায় ৯৮ রানে বিদায় নেন তিনি। তার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানে থেমেছে। চলতি আসরের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন পুরান। 

সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন ওমরজাই। দুই ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন। এক ওভারে ৩৬ রান দিয়ে বিশ্বকাপে যৌথভাবে সবচেয়ে খরুচে বোলিংটা করেছেন তিনি। নিয়েছেন একটি উইকেট। তুলনায় রান কম খরচ করেছেন গুলবাদিন নাইব। ২ ওভারে ১৪ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন। তাছাড়া একটি নিয়েছেন নাভিন উল হক। 

বিশাল এই স্কোরের সামনে উড়ে যায় আফগান দল। ১৬.২ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় তারা। তৃতীয় বলে গুরবাজের আউটের পর ভালোই চলছিল আফগানদের লড়াই। ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাট স্কোরবোর্ড সচল রাখছিল। কিন্তু গুলবাদিন নাইব (৭) সাজঘরে ফিরতেই ইব্রাহিমও টেকেননি বেশিক্ষণ। ২৮ বলে ৩৮ রান করেছেন। এটাই ছিল তাদের ইনিংসের সর্বোচ্চ। এর পর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি কেউ। রশিদ শেষ দিকে ১১ বলে ১৮ রানের ইনিংসে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।          

ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ১৪ রানে তিনটি নিয়েছেন ওবেড ম্যাককয়। ২১ রান ও ২৮ রানে দুটি করে নিয়েছেন আকিল হোসেন, গুদাকেশ মোটি। একটি করে নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল ও আলজারি জোসেফ।