২০২১ সালে আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি টেস্ট খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। গত বছর মার্চে দুই দেশের মধ্যে তিনটি ওয়ানডের সিরিজও ছিল এফটিপি সূচিতে, আর এই বছর আগস্টে তিনটি টি-টোয়েন্টি। কিন্তু আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে নারীদের মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে একে একে সবগুলো সিরিজ স্থগিত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কবে হবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক লড়াই, তা জানা নেই কারও। যে কোনও ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রবিবার আফগানদের প্রথম জয়ের পর এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল অধিনায়ক রশিদ খানকে। তিনি বললেন, এই ইস্যুর সমাধান তার জানা নেই।
অস্ট্রেলিয়া মানবাধিকার ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করলেও দুই দলের দেখা হয়েছে বৈশ্বিক ইভেন্টে। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি ও গত বছর ওয়ানডের বিশ্বকাপে আফগানরা অল্পের জন্য হেরে যায়। রবিবার সুপার এইটের ম্যাচে ২১ রানে অজিদের হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পায় তারা।
এফটিপি সূচিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থাকলেও তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রশিদ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমরা খেলোয়াড়, আমরা খেলাকে ভালোবাসি। দেশের মানুষরা খেলাকে ভালোবাসে। আগে যেমনটা বলেছিলাম, দেশে ক্রিকেটই সুখের একমাত্র উৎস। শুধুমাত্র ক্রিকেট ঘিরেই আফগানিস্তানের মানুষেরা উদযাপন করতে পারে। আর সেই উৎসটা যদি আমরা আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখি, তাহলে জানি না আফগানিস্তান কোথায় থাকবে।’
রশিদ আরও বললেন, ‘আমরা খেলোয়াড়রা শুধু ক্রিকেট নিয়ে ভাবি। সবাই বলে খেলাধুলা একটি জাতিকে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। আমরা যে কোনও দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে সবসময় খুশি। একমাত্র এভাবেই আমাদের ক্রিকেট দিনকে দিন উন্নতি করতে পারে। ক্রিকেটে যে বিষয়গুলো কারও নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, সেগুলো নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারি না। খুব ভালো হতো যদি কিছু করতে পারতাম। এটার কোনও সমাধান হলে ভালো লাগতো। আমরা খুব খুশি হতাম। কিন্তু আমি জানি না এর সমাধান কী।’
বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলে নিজেদের বিকশিত করতে চায় আফগানিস্তান, রশিদ বললেন, ‘যদি আমরা বিশ্বকাপে খেলি, তাহলে কেন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলতে পারবো না। সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে আমরা খুশি। আমরা তাদের কাছ থেকে শিখতে পারি। দিনকে দিন উন্নতি করতে পারি। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি।’