হারলেও মাশরাফিদের সতর্ক করলো ডাচরা

CdG6t-MXIAA6Ol-ডাচদের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে আপসেট ঘটানোর। এই স্বপ্নের কথা আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেন সরাসরি ঘোষণাই দিয়েছিলেন। সেভাবেই রণ কৌশল সাজায় তারা। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি নেদারল্যান্ডস। টেস্ট খেলুড়ে অভিজ্ঞ বাংলাদেশের রণ-কৌশলের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় ডাচরা!
তবে এই ম্যাচে মাশরাফির দলের বেশ কিছু ভুল স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে। যার কারণে শেষ ওভারে ডাচরা জয়ের লক্ষ্য পায় ১৭ রানের। সেই লক্ষ্য পূরণের সুযোগ দেননি দ্রুতগতির পেসার তাসকিন আহমেদ। তিনি শেষ ওভারে ৮ রান দিলে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮ রানের ব্যবধানে।

টস হেরে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্র তামিম ছাড়া আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি ডাচ বোলারদের সামনে। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস। বাকিরা শট নির্বাচনে ভুল করে সাজঘরের পথ ধরেছেন। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম তিনজনই ব্যর্থ হয়েছেন। বোলারদের চেয়ে তাদের ত্রুটিই ম্যাচে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তারপরও তামিমের অতিমানবীয় ইনিংসের কারনে স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান উঠে বাংলাদেশের।

ব্যাটিংয়ের চেয়েও বাংলাদেশের ভুলগুলো ধরা পড়েছে বেশি বোলিং-ফিল্ডিংয়ে। সাকিব-তামিমদের ভাগ্য খুবই ভালো বলেই ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচটি জিতেছে! যেভাবে ক্যাচ মিস করেছে বাংলাদেশর ফিল্ডাররা তাতে করে ম্যাচটি হাতছাড়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না। দলের সবচেয়ে ভালো ফিল্ডার নাসির। অথচ তিনি মিস ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে ক্যাচও ফেলেছেন। যদিও ক্যাচটি সহজ ছিলো না। এছাড়া কিপিংয়ে মুশফিকও উইকেটের পেছনে বেশ কয়েকটি রান দিয়েছেন।

প্রথম উইকেট দ্রুত নিয়ে নিলেও ওপেনার স্টিফেন মাইব্রাগের সঙ্গে বেন কুপার বড় জুটির দিকে এগুচ্ছিলেন। তাদের থামানোর দায়িত্বটা নিয়ে নিলেন নাসির। যদিও প্রথস ওভারে রান দিলেন ১৪। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি ভরসা রাখলেন নাসিরের উপরই। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে দেরি করেননি তিনি। তুলে নিলেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা মাইব্রুগ (২৯) উইকেট। যেখানে আগের ওভারের ১৪ রান দিয়ে খরুচে বোলার হতে যাচ্ছিলেন নাসির।

সাকিবের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো মুশফিক স্ট্যাপিং মিস করলেন। ম্যাচটি আবারও হেলে পড়লো নেদারল্যান্ডসের দিকে। অবশ্য প্রথম ওভারে মুশফিকের কারণে উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হওয়া সাকিব দ্বিতীয় ওভারে ক্লিন বোল্ড করে বেন কুপারের উইকেট তুলে নিলেন। তাতে আবার ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

পরের ওভারে মাশরাফি নিজে সরে নিয়ে আসেন আরাফাত সানিকে। তিনিও ৪ রান খরচ করে ম্যাচটি বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন। আবার রং বদলায় ম্যাচের! হেলে পড়ে নেদারল্যান্ডসের দিকে। পরের ওভাবে সাকিব দুটি বাউন্ডারি দেন। তাতে কিছুটা শঙ্কা জাগে।

মাশরাফি নিজেই বোলিংয়ে এলেন ম্যাচের ১৭তম ওভারে। আসলে ওই ওভাবেই নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। মাশরাফি দুর্দান্ত বোলিং রান আসলো মাত্র ৩টি। ৪ ওভার বোলিং করে তিনি দিলেন ১৪ রান, নিলেন একটি উইকেট। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮ রানে।

কিছু মিস ফিল্ডিং, কিছু বাজে বল ছাড়া টিম বাংলাদেশ হয়েই জিতেছে বাংলাদেশ। তারপরও ব্যাটিং কিছুটা ‍দুর্দশা ফুটে উঠেছে। যা কিনা পরের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্যই সাবধানী হতে হবে বাংলাদেশকে। মাশরাফি অবশ্য সব সময় শুরুটা ভালো করতে চান। তার বিশ্বাস শুরুটা ভালো হলে, বাকি পথটা আরও বেশি সহজ হয়ে যায়। হয়তো সামনের পথটা বাংলাদেশের জন্য আরও মসৃণ অপেক্ষা করছে!

/এমআর/