টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা মতো হয়নি। বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। মোটাদাগে বললে, সাকিব আল হাসানের হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্যও বাংলাদেশ দলকে ভুগতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সিনিয়র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খারাপ হলে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠাটা অমূলক নয়। সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাই চলছে আলোচনা। তবে সাকিব তার ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না। তার পরিকল্পনায় আগামী তিন মাস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
আগামী ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে মেজর লিগ ক্রিকেট। সেখান থেকে সাকিব খেলতে যাবেন কানাডার লিগে। এরপরই পাকিস্তানের সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সাকিবের ভাবনা আপাতত এতটুকুই। গণমাধ্যমকে সাকিব বলেছেন, ‘নিজেকে নিয়ে তেমন পরিকল্পনা নাই। আপাতত পরিকল্পনা হচ্ছে যে দুইটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে আমার সামনে। একটা হচ্ছে এমএলসি, যেটার জন্য এখন যাচ্ছি। এরপরই থাকবে গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ, যেটা কানাডায়।’
দুটি লিগ খেলে সাকিব নিজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে এই মুহূর্তে তার পরিকল্পনা পাকিস্তান সিরিজ পর্যন্তই, ‘দুটি লিগ খেলে দেখবো, এরপর দেখবো নিজের কী অবস্থা। তার পর পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ। আপাতত এতটুকুই। খুব বেশি আসলে পরিকল্পনা করিনি। নিজের বোঝার দরকার আছে। এবং এখন আসলে ওরকম সময় নেই তিন বছর, চার বছর পরিকল্পনা করার। আমার মনে হয় তিন মাস, ছয় মাস পরিকল্পনা করাটাই ভালো। আপাতত পাকিস্তান সিরিজ পর্যন্ত পরিকল্পনা আছে।’
সমর্থকরা সাকিবের অবসর চাইলেও বোর্ড এমনটা মনে করে না। গতকাল বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গণমাধ্যমকে তেমনটাই বলেছেন। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় (২০২৬) সাকিব-মাহমুদউল্লাহকে রাখা হবে কি না এমন প্রশ্নে পাপন বলেছেন, ‘এই যে সাকিব, ও তো টি-টোয়েন্টি খেলতে যাচ্ছে। ওখানে গিয়ে যদি খেলা শুরু করে দেয়, তাহলে কি বাদ দিতে পারবেন? নাকি আমি দিবো? আমি তো ওকে আরো তাড়াতাড়ি নিয়ে আসবো। এগুলা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি আপনাদেরকে একটা কথা বলতে চাই, শুধু সাকিব নয়, আজকে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে জায়গায় এসেছে সেখানে সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ এদের প্রত্যেকের অবদান এত বেশি যে, এই সময়ে এসে ওদের দলে চান্স পাওয়া বা ভালো খেলার প্রমাণ করা এটা ওদের জন্য অপমানজনক। আমরা চাই ওরা ওদের সেরাটা খেলে অবসরে যাক।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নামার আগে দারুণ রোমাঞ্চিত সাকিব, ‘অবশ্যই ভালো। যেটা আমার কাছে সেকেন্ড হোমের মতো লাগে সব সময়। সবাই নিজেদের লোক, পরিচিত; কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অফিসিয়াল সবাই। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে। আশা করি সেরাটা দিতে পারবো।’