তাসকিন সেরা বোলিং করলেও শেষ হাসি খরুচে মোস্তাফিজের

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে রবিবার ডাম্বুলায় মুখোমুখি হয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। দুই পেসারই ছিলেন বেশ খরুচে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান দেন মোস্তাফিজ। আর তাসকিনও দেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। অবশ্য তাকে ছাপিয়ে শেষ হাসি হেসেছেন মোস্তাফিজ। তাসকিনদের কলম্বো স্ট্রাইকার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তার দল ডাম্বুলা সিক্সার্স।

এলপিএলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স একেবারেই খারাপ যাচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। আজ শরিফুল ইসলাম দারুণ বোলিং করেন, যদিও তার দল ক্যান্ডি ফ্যালকন্স হেরে গেছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেও একই পরিস্থিতি। কলম্বোর হয়ে খেলতে নামা তাসকিন দারুণ বোলিং করেছেন। তবে দুই উইকেট নিলেও ছিলেন বেশ খরুচে। অবশ্য দলের বোলারদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশের পেসারই সেরা। কলম্বোর বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে ১৮৬ রানের লক্ষ্য ডাম্বুলা সিক্সার্স মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩ বল আগেই ছুঁয়ে ফেলে।

ডাম্বুলাতে আগে ব্যাটিং করে টপ অর্ডার তিন ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ, গ্লেন ফিলিপস ও অ্যাঞ্জেলো পেরেরার ব্যাটিংয়ে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে কলম্বো। জবাবে খেলতে নেমে ডাম্বুলার দুই ওপেনার রেজা হেনড্রিক্স ও কুশল পেরেরা ১৫৪ রানের জুটি গড়েন। কলম্বোর কোনও বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। কলম্বোর কাছ থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নেওয়া হেনড্রিক্স ও পেররাকে ফিরিয়েছেন তাসকিন। ১৫তম ওভারে দুটি উইকেট নেন এই পেসার।

যদিও ততক্ষণে ম্যাচ হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গেছে। ১৩ বল আগেই লাহিরু উদারা ১১ ও মার্ক চ্যাপম্যান ২৩ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। হেনড্রিক্স ৩৯ বলে ৫৪ এবং পেরেরা ৫০ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন।

৪ ওভারে ৪৫ রান খরচায় তাসকিনের শিকার দুটি উইকেট। বাকিরা কেউই ডাম্বুলার ব্যাটারদের প্রতিহত করতে পারেননি। 

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া কলম্বো শুরুটা ভালোই করেছিলো। দুই ওপেনার গুরবাজ ও পেরেরা মিলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। ২৭ বলে ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংসের পর পেরেরা রান আউট হলে জুটি ভাঙে তাদের। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে কলম্বো। ৫২ রানে দলটি হারায় ৫ উইকেট। ষষ্ঠ উইকেটে ফিলিপস ও চামিকা করুণারত্নে মিলে পরিস্থিতি সামাল দেন। তাদের ২৫ বলে গড়া ৫৯ রানের জুটির ওপর দাঁড়িয়ে কলম্বো ১৮৫ রানের বড় সংগ্রহ পায়। ফিলিপস ৩৬ বলে ৫২ রান করে আউট হলেও করুণারত্নে ১২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

ডাম্বুলার বোলারদের মধ্যে ২০ রানে ২ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার মোহাম্মদ নবী। এছাড়া নুয়ান প্রদীপ নেন দুটি এবং দুষণ হেমন্ত নেন একটি উইকেট। মোস্তাফিজ এদিন ছন্নছাড়া বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ৫৩ রান খরচ করে ছিলেন উইকেট শূন্য। দলের সবচেয়ে খরুচে বোলার তিনিই।