আমার কখনও মনে হয়নি বিসিবি সুশৃঙ্খল সংস্থা: ফাহিম

দেশে সরকার পরিবর্তনের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কোনও খোঁজ নেই। তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে ইংল্যান্ডে পালিয়েছেন বলেও গুঞ্জন আছে। ইতিমধ্যে পুরো দেশের সিস্টেমকে সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। তারই ধারবাহিকতাই বিসিবিকে সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

শনিবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবিকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেছেন তিনি।  ফাহিম বলেন, ‘আমি যেহেতু খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি, আমার মনে হয় না বিসিবি খুব একটা সুশৃঙ্খল সংস্থা। বাইরে থেকে এর চাকচিক্য দেখে হয়তো মনে হয় বিসিবি খুব দারুণ একটা সংস্থা। বিসিবির যে সুযোগ ছিল, সেটার ম্যাক্সিমাম ইউটিলাইজেশন হয়নি। অনেক কারণেই হয়নি। অনেক ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে হয়নি। তাই আমার মনে হয় এখানে পরিবর্তন আনা দরকার।’

ক্রিকেট পরিচালকদের সমালোচনা করে ফাহিম আরও বলেছেন, ‘তারা যদি ক্রিকেটের সত্যিকার অর্থেই সেবক হতেন, তাহলে কিন্তু তারা আসতেন। আমার মনে হয় না তারা ক্রিকেটের সেবক ছিলেন। তাদের নিজস্ব অ্যাজেন্ডা ছিল। সে অ্যাজেন্ডাই তারা বাস্তবায়ন করেছেন। আমরা দেখেছি ক্রিকেটের কী হয়েছে। ক্লাব ক্রিকেট বলি, পুরো খেলাটাকেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

ক্রিকেট সংস্কারের রূপরেখা তৈরি রাখার কথা জানিয়ে  ফাহিম বলেছেন, ‘এটা (রূপরেখা) নিয়েই তো আমরা বছরের পর বছর চিন্তাভাবনা করেছি, বিশেষ করে আমি। কোন জায়গায় কী করলে আরেকটু এগোনো যায়, কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। আমাদের কী রিসোর্স আছে যা দিয়ে আমরা ওভারকাম করতে পারি। সামনে হয়তো এটা নিয়ে আমি আলাপও করবো। কোন জায়গায় আমরা পিছিয়ে আছি, অথচ সে জায়গায় আমাদের পিছিয়ে থাকার কোনও কারণ নেই।’

ফাহিম জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গেও বসবেন প্রয়োজনে, ‘অবশ্যই। সেখানে যদি ইনপুট দেওয়ার সুযোগ থাকে, অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো। শুধু আমার কথা নয়, যারা এসব বিষয়ে অবগত আছেন, তাদের কাছ থেকে আইডিয়া নেওয়া দরকার। তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। আমি যদি ফরমালি কিছু করি, আমি নিশ্চয়ই আলাপ করবো। আমি চাইবো কম্প্রিহেনসিভ একটা রূপরেখা নিয়ে আসতে। যেন আমরা যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের সাহায্য করতে পারি। আমি আবারও বলি, এটা আমার ব্যাপার নয়। উপদেষ্টাদের কথা বললেন, তারা চায় সিস্টেমটাকে ঠিক করতে। যারা সিস্টেম ভালোভাবে চালাতে পারবে সেই ক্রিকেট বোর্ডে আসার যোগ্যতা রাখে।’

কোটা আন্দোলনের শুরু থেকেই সমর্থন দিয়েছিলেন ফাহিম। শেষদিকে যখন এটা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন তিনি নামেন রাজপথে। বদলে যাওয়া বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়েও স্বপ্ন দেখছেন তিনি, ‘(পরিবর্তন হলে) আমাদের অনেক সংকটের সমাধান হতে পারে। এমনটা হলে ক্রিকেটে আমাদের ভালো করতে না পারার কোনও কারণ নেই। আমাদের অবস্থান এমন হওয়ার কথা নয় যে নেপালের সঙ্গে জিতব আর খুব খুশি হয়ে যাব। সে জায়গায় তো আমাদের থাকার কথা না এখন। কিন্তু হয়ে গেছে তো।’