ব্যাটিং ধসের পর ধনাঞ্জয়া-মিলানে শ্রীলঙ্কার লড়াই

ম্যানচেস্টারে টসে জিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। অথচ স্বপ্নের মতো শুরু করলো তাদের প্রতিপক্ষ, আর যেন দুঃস্বপ্ন দেখছিল তারা। অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা তার ভুল সিদ্ধান্তের প্রায়শ্চিত্ত করলেন, দারুণ সঙ্গ পেলেন অভিষিক্ত ব্যাটার মিলান রত্নায়েকের কাছ থেকে। টপ অর্ডার ধসের পর এই দুই ব্যাটারের হাফ সেঞ্চুরিতে লড়াই করেছে লঙ্কানরা। প্রথম ইনিংসে ২৩৬ রান করে তারা। জবাবে বিনা উইকেটে ২২ রান করে দিনের খেলা শেষ করেছে ইংলিশরা। তারা এখনও ২১৪ রানে পিছিয়ে। 

মাত্র ৬ রানে তিন উইকেট পড়ে শ্রীলঙ্কার, তাও আবার ১০ বলের মধ্যে। গাস অ্যাটকিনসন ষষ্ঠ ওভারে দিমুথ করুণারত্নেকে (২) থামান। তারপর সপ্তম ওভারের প্রথম ও শেষ বলে নিশান মাদুশকা (৪) ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে (০) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ক্রিস ওকস।

লাঞ্চের আগে আরও দুটি উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। ৭২ রানে পড়ে তাদের পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে একটা সময় স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১৩ রান। অশনি সংকেত লঙ্কানরা সামলে ওঠে ধনাঞ্জয়া ও মিলানের অষ্টম উইকেট জুটিতে। একটু বেশি আগ্রাসী ছিলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। চা বিরতির ঠিক আগে ধনাঞ্জয়া আউট হলে ভেঙে যায় ৬৩ রানের এই জুটি। ৮৪ বলে ৭৪ রান করেন তিনি।

৯ নম্বরে নামা মিলান এরপর অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে তাকে চমৎকার সঙ্গ দেন বিশ্ব ফার্নান্ডো। শেষ সেশনে আলোকস্বল্পতার কারণে পেসাররা বল করতে পারেননি। শোয়েব বশির নেন মিলানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ততক্ষণে স্কোর দুইশ ছাড়িয়ে গেছে। 

বিশ্বর সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে আউট হন মিলান। ১৩৫ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৭৫ রান করেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে ৯ নম্বরে নামা কোনও অভিষিক্ত ব্যাটারের এটাই সর্বোচ্চ রান। বিশ্ব ৬২ বলে ১৩ রানে রানআউট হলে লঙ্কানরা গুটিয়ে যায়।

ওকস ও বশির সমান তিনটি করে উইকেট পান। দুটি নেন অ্যাটকিনসন।

আলোর ঘাটতি থাকায় মাত্র চার ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে ইংল্যান্ড। দুই প্রান্ত থেকে লঙ্কানদেরও স্পিন করতে হয়েছে। ধনাঞ্জয়া ও প্রবাথ জয়াসুরিয়া এই অল্প সময়ে বেন ডাকেট ও ড্যান লরেন্সের ওপেনিং জুটি ভাঙতে পারেননি। বিনা উইকেটে ২২ রান করে ইংল্যান্ড। ১৩ রানে ডাকেট ও লরেন্স ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।