নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

জাতীয় লিগের পর শ্রীলঙ্কাতে বাংলাদেশের ‘বিশ্বকাপ প্রস্তুতি’

বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বিশ্বকাপ চলে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এজন্য দেশের নারী ক্রিকেটারদের কিছুটা মন খারাপ। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েছে তারা। এখন প্রস্তুতির পালা, সেখানে কোনও ঘাটতি রাখতে চান না নিগার সুলতানা জ্যোতি। প্রস্তুতির কথা চিন্তা করেই শুরু হচ্ছে জাতীয় লিগ। তারপর বিশ্বকাপের আগেভাগে শ্রীলঙ্কায় সফর করবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এই দলটিতে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে রাখবে বিসিবি।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে মেয়েদের জাতীয় ক্রিকেট লিগ। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ৮ দলের এই টুর্নামেন্ট। এরপর আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ‘এ’ দলের মোড়কে জাতীয় দল শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে। সফরে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সফরটি ‘এ’ দলের হলেও মূলত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আধিক্যই থাকবে বেশি।

মেয়েদের প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে হেড অব অপারেশনস হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘প্রস্তুতির ক্ষতি খুব একটা হচ্ছে না। আমরা বিশ্বকাপকে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মেয়েদের ওয়ান টু ওয়ান অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের স্থানীয় কোচরা ছিলেন। কোচিং স্টাফ চলে এসেছে। এনসিএলটা আমাদের প্রস্তুতির অংশ।

তারপর আমরা শ্রীলঙ্কাতে ‘এ’ দল পাঠাবো। সেটাও আমাদের প্রস্তুতির অংশ। যাদের নিয়ে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করবো, তাদের নিয়েই ‘এ’ দলটা সাজাবো।’

জাতীয় লিগ কেন রাজশাহীতে, এমন প্রশ্নে হাবিবুল বলেছেন, ‘রাজশাহীতে উইকেট ভালো। মেয়েরা যেন ভালো উইকেটে খেলতে পারে, স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে পারে, আমরা এটাই চাই। আর এখন যেহেতু বৃষ্টির সময়, রাজশাহীর দিকে বৃষ্টিটা একটু কম হয়। দুটি মাঠ পাওয়া যাবে। টুর্নামেন্টটা শেষ করতে হবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। এটা যেহেতু আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্ততির অংশ। এ জন্যই রাজশাহীতে খেলা দেওয়া।’

আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বিশ্বকাপ চলে গেছে আরব আমিরাতে। আগামী ৩ থেকে ২০ অক্টোবর আমিরাতের দুই শহর দুবাই ও শারজায় হবে মেয়েদের এই আইসিসি ইভেন্ট। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় কিছুটা হতাশ মেয়েরা। হাবিবুল বললেন, ‘বিশ্বকাপ না হওয়ায় যেটা হলো, সবারই ইচ্ছা থাকে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলা। মেয়েদের অনেকেরই সে স্বপ্ন ছিল। এজন্য ওরা একটু হতাশ। আমরা অবশ্যই ঘরের মাঠের কন্ডিশন মিস করবো।’

প্রসঙ্গত, এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে আরও আছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড। এছাড়া ‘এ’ গ্রুপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে থাকছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।