লিড নিয়ে দিন শেষ করেও বিপদে শ্রীলঙ্কা

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে। চা বিরতির আগে মার্ক উডের আগুন বোলিংয়েই যেন শ্রীলঙ্কার লড়াই করার আশা শেষ হয়ে যায়। ইংলিশ পেসার দুইবার আঘাত করলেন, একবার তো আক্ষরিক অর্থেই। দিমুখ করুণারত্নেকে (২৭) হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ বানালেন উড। পরে তার বলে বুড়ো আঙুলে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হন দিনেশ চান্ডিমাল। খানিকটা সুস্থ হয়ে পরে নেমেছেন তিনি। টপ অর্ডারের আরেকটি হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর শ্রীলঙ্কাকে উদ্ধার করা কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে শেষ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন চান্ডিমাল। তারা লিড এনে দিতে দারুণ অবদান রাখলেও বিপদে আছে লঙ্কানরা। 

ইংল্যান্ডের ৩৫৮ রানের প্রথম ইনিংসের জবাবে তৃতীয় দিনে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছে ৬ উইকেটে ২০৪ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৩৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। আর মাত্র চার উইকেট হাতে রেখে ৮২ রানের লিড লঙ্কানদের।

লাঞ্চের সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ৯৫ রানে চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তারপর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও কামিন্দু উইকেট পড়ার মিছিল লম্বা হতে দেননি। দুজনে মিলে ৭৮ রান তোলার পর থামতে হয়। ততক্ষণে লঙ্কানরা দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নিয়েছে।

ম্যাথুজ ১৪৫ বলে ৬৫ রান করে থামেন। প্রথম ইনিংসের হাফ সেঞ্চুরিয়ান মিলান রত্নায়েককে (১০) বেশিদূর যেতে দেননি জো রুট। নিজের একমাত্র ওভারে তাকে বেন ডাকেটের ক্যাচ বানান তিনি।

১৯০ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর শ্রীলঙ্কা দুইশ পার করেছে চান্ডিমাল ও হাফ সেঞ্চুরিয়ান কামিন্দুর জুটিতে। ৬ উইকেটে ২০৪ রান তাদের। 

১০৯ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত আছেন কামিন্দু। চান্ডিমাল খেলছেন ২০ রানে।

ইংল্যান্ডের পক্ষে ২টি উইকেট নেন ক্রিস ওকস।

এর আগে ৬ উইকেটে ২৫৯ রানে দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ৭২ রানে জেমি স্মিথ ও ৪ রানে গাস অ্যাটকিনসন ক্রিজে ছিলেন। তাদের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পর ৬৬ রানের এই জুটি ভাঙে। অ্যাটকিনসন আউট হওয়ার আগে ৬৫ বলে ২০ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ কিপার হিসেবে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি করা স্মিথ ইনিংসকে আর বড় করতে পারেননি। ১৪৮ বলে ১১১ রান করে প্রবাথ জয়াসুরিয়ার শিকার হন তিনি।

মার্ক উড ১৩ বলে ২২ রানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ১২২ রানের লিড এনে দিতে ভূমিকা রাখেন। ম্যাথু পটসের ১৭ রানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে আসিথা ফার্নান্ডো সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন। প্রবাথ জয়াসুরিয়া ও বিশ্ব ফার্নান্ডো যথাক্রমে ৩ ও ২ উইকেট নেন।