গাস অ্যাটকিনসন আবারও লর্ডসে দাপট দেখালেন। চার ইনিংসে তৃতীয়বার পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। তাতে ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার লঙ্কানদের এই ভেন্যুতে টেস্টে হারালো ইংল্যান্ড। এই সময়ের মধ্যে হোম অব ক্রিকেটে দুই দল টেস্টে মুখোমুখি হলেও সবগুলো ড্র হয়েছিল। রবিবার চতুর্থ দিনেই ১৯০ রানে দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে এক টেস্ট হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করলো স্বাগতিকরা।
এই মৌসুমে এনিয়ে টানা পঞ্চম জয় পেলো ইংল্যান্ড এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অলি পোপের অধীনে দ্বিতীয়।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা অ্যাটকিনসন শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দেখালেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। পাঁচ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দিলেন ২৯২ রানে।
চা বিরতির পর জয় খুব তাড়াতাড়ি এসেছে। নতুন বল হাতে শেষ তিনটি উইকেট পড়েছে দ্রুত। ১৬তম টেস্ট ফিফটি হাঁকানো ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ইনসাইড এজ হয়ে অ্যাটকিনসনের ডেলিভারিতে বোল্ড হন। পরে এই ইংলিশ পেসার মিলান রত্নায়েকেকে জেমি স্মিথের ক্যাচ বানান। ক্রিস ওকস জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন লাহিরু কুমারাকে অলি স্টোনের ক্যাচ বানিয়ে।
ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করেছিল বিকালে। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে দিনেশ চান্ডিমালের কাছ থেকে বাউন্ডারি হজম করতে হয়েছে। লঙ্কান ব্যাটার শোয়েব বশিরের অফস্পিন ভালোভাবে সামলালেও ওকসের বিরুদ্ধে একই ছন্দে থাকতে পারেননি। ইংলিশ পেসার অবশ্য তার ছয় ওভারের ওই স্পেলে উইকেট পাননি। দারুণ ব্যাটিং করে ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন চান্ডিমাল। লর্ডসে এটাই কোনও লঙ্কান ব্যাটারের দ্রুততম ফিফটি।
দ্বিতীয় সেশনে এই ইনিংস খেলার পথে চান্ডিমাল পঞ্চম উইকেটে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েন। কিন্তু অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে মাঠছাড়া করে এই জুটি ভাঙে ইংল্যান্ড। বশির রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করে তাকে মিড অফে শিকার বানান।
চান্ডিমাল শেষ পর্যন্ত ইনিংস সেরা ৫৮ রানে উইকেট হারান অ্যাটকিনসনের নতুন স্পেলে। ইনসাইড এজ হয়ে তার প্যাডে লেগে বল শর্ট লেগে ড্যান লরেন্সের ক্যাচ হন। এই পেসার তার পরের ওভারেও আঘাত করেন। ফর্মে থাকা কামিন্দু মেন্ডিস কট বিহাইন্ড হন।
তারপর ডি সিলভা ও মিলান অষ্টম উইকেটে ৭৩ রান তুলে শেষ প্রতিরোধ গড়েন। ৭১ বলের ইনিংসে বেশ সাবলীল ছিলেন ডি সিলভা। কিন্তু চা বিরতির আগে পরে দ্বিতীয় নতুন বলে ভুগেছেন তিনি। ৬২ বলে ৫০ রান করে থামেন তিনি শেষ সেশনের শুরুতে।
এর আগে সকালের সেশনে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৩৬ রানে শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখে। যদিও দিমুথ করুণারত্নের হাফ সেঞ্চুরিতে ইংলিশদের অস্বস্তিতে রেখেছিল। প্রবাথ জয়াসুরিয়া বিদায় নেওয়ার পর তিনি ম্যাথুজকে নিয়ে ৫৫ রানের জুটিতে লড়াই ধরে রেখেছিলেন। লাঞ্চের আগে করুণারত্নেকে ৫৫ রানে ফিরিয়ে দেন অলি স্টোন।
৪৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে লাঞ্চের পর শ্রীলঙ্কার লড়াই কেবল হারের ব্যবধান কমায়।
অ্যাটকিনস ১৬ ওভারে ৫ উইকেট নেন ৬২ রান খরচায়। প্রথম ইনিংসে ১১৮ রান করেন তিনি। লর্ডসে বিনু মানকাড় (১৯৫২) ও ইয়ান বোথামের (১৯৭৮) পর তৃতয়ি ক্রিকেটার হিসেবে এই দ্বৈত অর্জন করলেন অ্যাটকিনসন। সেঞ্চুরি ও সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও তিনি।
এনিয়ে লর্ডসে চার ইনিংসে তিনটি ফাইফারসহ ১৯ উইকেট পেলেন অ্যাটকিনসন। হোম অব ক্রিকেটে এক মৌসুমে এটি যৌথ রেকর্ড। ১৯৭৮ সালে একই কীর্তি গড়েন বোথাম।