শান্তরা চাইছিলেন, সাকিব-মুশফিক ম্যাচ জিতিয়ে আসুক

বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ১৮৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যটা ছুঁতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। চার উইকেট হারালেও সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েছেন। বাংলাদেশ যখন জয়ের কাছাকাছি, ড্রেসিরুমের সামনের ব্যালকনিতে সব ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন। সবার চাওয়া ছিল, সাকিব-মুশফিকই যেন ম্যাচ শেষ করে আসেন। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এমনটাই জানালেন। 

৬ উইকেটে দারুণ জয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘আবেগটা আসলে মুখে বলা মুশকিল, কঠিন হবে। কারণ এ ধরনের অর্জন আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মুশফিক ভাই, সাকিব ভাই যখন ব্যাটিং করছিলেন, আমরা সবাই ড্রেসিংরুম থেকে চাচ্ছিলাম তারা দুজনই যেন খেলাটা শেষ করে আসেন। এত বছর ধরে উনারা বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন, কত ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু এই ধরনের ম্যাচ জেতা অনেক বিশেষ এবং আমরা সবাই চাচ্ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ সবাই অনেক খুশি।’

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ২৬ রানে তারা হারিয়েছিল ৬ ব্যাটারকে। সেখান থেকেই দলকে টেনে তুলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস। এই দুই ব্যাটারের প্রশংসা করতে গিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেছেন, ‘৬ উইকেট হারানোর পর আমি আগেই বলেছিলাম, আমরা এখনও বিশ্বাস করি। ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে সে (মিরাজ) একটা বিষয় বলেছিল, সে ও লিটন দলের জন্য কাজটা করতে পারবে। তারা দুজন আগেও এমন কিছু করেছে, তবে এটা অবিশ্বাস্য। তাদের যে বিশ্বাস আছে এবং ড্রেসিংরুম একেবারে ভিন্ন। আমি মিথ্যা বলবো না, কারণ আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম এবং নার্ভাস ছিলাম ওই সময়।’

প্রথম ইনিংসে মিরাজের অসাধারণ বোলিংয়ের প্রশসা করে শান্ত আরও বলেছেন, ‘প্রথম ইনিংসে মিরাজ যে ধরনের উইকেটে পাঁচটি উইকেট নিয়েছে, তা সত্যিই চমৎকার। সাম্প্রতিক সময়ে কোচদের সঙ্গে কাজ করে তার উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আশা করি, ভারতের বিপক্ষেও সে একইভাবে পারফর্ম করবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদেরও ভূমিকা আছে বলে মনে করেন শান্ত, ‘এটা পুরোপুরি একটা দলগত খেলা ছিল। যারা মাঠে নামতে পারেনি, তারাও প্রচুর পরিশ্রম করেছে, যা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শুধু রান করা বা উইকেট নেওয়ার ওপর আমাদের দৃষ্টি ছিল না, বরং যারা সুযোগ পায়নি, তাদেরও অবদান ছিল অপরিসীম। এটাই আমাদের সাফল্যের মূল কারণ এবং আমি আশা করি এ সংস্কৃতি ধরে রাখবো।’