বাংলাদেশের বড় ৯টি টেস্ট জয়ের ছয়টিই এসেছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কোচিংয়ে। ২০১৪ সালে শেন জার্গেনসেন অধ্যায় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন লঙ্কান কোচ। মাঝে কিছুদিন দায়িত্বে না থাকলেও পরবর্তীতে আবার যুক্ত হন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে। প্রথম মেয়াদেও হাথুরুসিংহেকে প্রবল ক্ষমতা দিয়েছিলেন তৎকালীন বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। লঙ্কান কোচের অধীনে সাফল্য যেমন আছে, আছে বিতর্কও। সবকিছু পাশে ফেলে সাফল্যের পরিমাণ বেশি। তাই তো পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করানোর পর হাথুরুসিংহের বন্দনায় মজেছেন অনেকেই। সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ তাদের একজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক এই ব্যাটার লিখেছেন, ‘শুনলাম এই সিরিজের পর হাথুরুসিংহে চলে যাবেন। আপনি কি এখনও মনে করেন, হাথুরু ভালো কোচ নয়? আমি যা বুঝি, একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি কখনোই কারও কথা শোনেন না। প্রটোকল অনুসরণ করেন না। আমি এসব নিয়ে একমত। কিন্তু তিনি ভালো কোচ নন- এ বিষয়ে আমি একমত হতে পারলাম না। আপনি টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে জিততে পারেন, কিন্তু কোয়ালিটি না থাকলে টেস্ট জিততে পারবেন না। কারণ, এটা লংগার ভার্সনের ক্রিকেট। ভালো পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা ছাড়া আপনি একটা ম্যাচও জিততে পারবেন না। তাই এই দলে হাথুরুসিংহের অনেক অবদান আছে।’
২০১৬ সালে দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক প্যানেল মানতে না পেরে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। সেই তিনি এখন বোর্ড সভাপতি। তার দায়িত্বে আসার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে হাথুরুসিংহেকে অপসারণের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল ভারত সিরিজের আগেই তিনি বরখাস্ত হতে পারেন। যদিও এই নিয়ে বিসিবি এখন মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জেতার পর সাবেক প্রধান নির্বাচক ও বিসিবির চিফ কো-অর্ডিনেটর অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে হুট করে কোচ পরিবর্তন দলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপের সময় যে কোচের পরিবর্তন হয়েছিল, ওই স্বল্প সময়ে পরিকল্পনা সাজানোটা কিন্তু কঠিন ছিল। একটা বিশ্বকাপের জন্য টিম গুছিয়ে আনতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। ওই জায়গায় এসে হেড কোচ সরে গেলে সেটা খুব কঠিন। ২৩-এর ওই সময়টায় পরিবর্তন করায় কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারপরও আমি জানি না। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত, যেহেতু বোর্ডের ডিরেক্টররা আছেন। তারা সভাপতির সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন। বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে অনেকে হাথুরুসিংহের কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তবে কারও মতে, কৃতিত্ব দিতে হলে স্থানীয় কোচদের দেওয়া উচিত। সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল ফেসবুকে স্থানীয় কোচ সোহেল ইসলামের ছবিসহ একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগে টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ৪৫ দিনের কঠোর প্রস্তুতির প্রসঙ্গ টেনে এনে স্থানীয় কোচদের প্রশংসা করেছেন বুলবুল।