পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাই সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। এই পুরস্কার বাবদ ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি জিতেছেন। এই অর্থ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ রিকশাচালক পরিবারকে দেবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। যদিও সিদ্ধান্তটি হুট করেই নেননি তিনি। আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন বলে মিরাজ জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। শহীদ রিকশাচালক পরিবারকে ৫ লাখ রুপি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘টেস্টের শেষ দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছিলাম একটা ছেলে কান্না করছে। ছেলেটার বয়স আমার ছেলের বয়সের মতোই। “আমার বাবা মারা গেছেন নামাজ পড়তে গিয়ে, গুলি খেয়ে মারা গেছেন, আমি রক্ত দেখেছি। আমার বাবা ফিরে আসে না”—ওই কথাগুলো আমার এখনও কানে বাজে।’
মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজ সেরা না হলেও দেশে ফিরে রিকশা চালক পরিবারের হাতে কিছু অর্থ তুলে দিতেন তিনি, ‘ভিডিওটা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছিল। তখনই নিয়ত করেছিলাম। ম্যান অব দ্য সিরিজ হবো কি না, তা তো জানতাম না। তবে দেশে এসে ওদের সাহায্য করবো, সেটা তখনই নিয়ত করেছি। যেহেতু ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছি, সেটাই আমি উৎসর্গ করে দিয়েছি।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুলাই-আগস্টে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। এই আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, পথচারী, রিকশাচালকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শহীদ হয়েছেন।