পাকিস্তানে প্রথম টেস্ট চলাকালে বিসিবির নতুন প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদের বক্তব্যে জোরালো গুঞ্জন ওঠে, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বাংলাদেশের লঙ্কান প্রধান কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়ানো গুঞ্জনের অবসান হলো।
বোর্ডে এক কর্মকর্তা বলেছেন, আসন্ন ভারত সফরের আগে বাংলাদেশে আসবেন শ্রীলঙ্কান কোচ। এশিয়ান প্রতিবেশীর বিপক্ষে দলকে পরিচালনাও করবেন তিনি।
আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত হাথুরুসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ। কিন্তু ফারুক বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ সংশয়ের মধ্যে পড়ে যায়। কারণ গত দুই বছর ধরে লঙ্কান কোচের বিরুদ্ধে ফারুকের সরব কণ্ঠ কারও অজানা নয়। বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হাথুরুসিংহের ব্যাপারে তার অবস্থান এখনও আগের মতোই।
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে এসেছিলেন হাথুরুসিংহে। বিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার আলাপ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরের দিন বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক না করেই ফিরে যান দেশে। বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম অবশ্য হাথুরুসিংহের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জনে ইতি টেনে দিলেন।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ফিরবেন হাথুরুসিংহে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে নাজমুল আবেদীন বলেছেন, ‘প্রধান কোচ আসবেন এবং বাংলাদেশে আসবেন (এবং ভারতের বিপক্ষে দলকে পরিচালনা করবেন)।’
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মিরপুরে বাংলাদেশের ভারত সফরের প্রস্তুতি শুরু হবে। সেখানে সাকিব আল হাসান থাকবেন না। ইংল্যান্ডে বর্তমানে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছেন তিনি। তাকে নিয়ে নাজমুল বলেছেন, ‘সাকিব ইংল্যান্ড থেকে ভারতে খেলতে যাবে। এখন পর্যন্ত আমরা এটাই জানি। কোনও ইনজুরি সমস্যা নেই। আশা করি পুরো দলকে পাবো। সাকিব গেছে কাউন্টি খেলতে এবং আমি আশা করি প্রত্যেকে থাকবে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে অনুশীলন করবে দল।’
বাংলাদেশ দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারতে। এরই মধ্যে এই সিরিজে বাগড়া দিতে হুমকি দিয়ে রেখেছে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল হিন্দু মহাসভা। এই বিষয়টি নিয়ে নাজমুল বলেছেন, ‘এমন বিষয়গুলো (হুমকি) ঘটে। প্রায় সব দেশে খেলতে গেলে এমন কিছু হয়। আমি মনে করি না এটা বড় কোনও হুমকি। আমরা সূচি অনুযায়ী সফরে যাবো। আমরা স্বাগতিক বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা বিশ্বাস করি, তারা এই সফরে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাড়াবে।’