মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে অনেকটা জোর করেই কিপিং গ্লাভস কেড়ে নিতে হয়েছে। কারণ তার বিশ্বাস ছিল, কিপিং তার ব্যাটিংয়ে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে এই বিষয়ে লিটন দাসের ভাবনা পুরোপুরি আলাদা। তার মতে, কিপিং কখনোই ব্যাটিংয়ে সাহায্য করে না।
২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয় মুশফিকের। সে সময়ে বাংলাদেশের হয়ে উইকেটের পেছনে দাঁড়াতেন খালেদ মাসুদ পাইলট। ২০০৭ সালে তার অবসরের পর পাকাপাকিভাবে গ্লাভসের মালিক হয়ে যান মুশফিক। ব্যাটিংয়ে দারুণ করলেও কিপিং নিয়ে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হতো তাকে। একটা সময় অনেকটা জোর করেই মুশফিককে উইকেটের পেছনের দায়িত্ব থেকে সরাতে হয়েছে।
৯০ টেস্টের মধ্যে মুশফিক ৫৫ ম্যাচে কিপিং করেছেন। যেখানে ১০৪ ইনিংসে রান করেছেন ৩ হাজার ৫১৫। ৬ সেঞ্চুরি ছাড়াও ১৬ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। কিপিং ছাড়া ৩৫ টেস্টে ৬২ ইনিংসে মুফিকের রান ২ হাজার ৩৭৭। যেখানে ৫ সেঞ্চুরি ছাড়াও ১১ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। মুশফিক অবশ্য কিপিং করেই বেশি সফল ছিলেন ব্যাটার হিসেবে। কিপিং নিয়ে মুশফিকের ভাবনা ছিলো, ‘কিপিং আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করে। এমন নয় যে কিপিং করলে আমি প্রতি ম্যাচেই একশ বা দুইশ করবো। কিন্তু কিপিংটা একটা প্রক্রিয়া এবং আমি এই প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি বিশ্বাসী। আমার মনে হয় এটা অনেক সাহায্য করে।’
এদিকে ৪৩ টেস্ট খেলা লিটন ৩২ টেস্ট খেলেছেন উইকেট কিপার হিসেবে। ৪০.৯৪ গড়ে ২ হাজার ৮৮ রান করেছেন। ৪ সেঞ্চুরির তিনটিই কিপিং করে। ১৭ হাফ সেঞ্চুরির ১৪টিই এসেছে এ সময়ে। কিপিং নিয়ে লিটনের ভাবনা পুরোপুরি মুশফিকের উল্টো, ‘কিপিং কখনও ব্যাটিংয়ে সাহায্য করে না। কিপিং একটা অংশ। যদি ফিল্ডিং করি, তাহলে ফিল্ডিং যেভাবে করতে হয়, কিপিং জিনিসটাও একই।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ ক্রিকেট খেলার পর স্বাভাবিকভাবেই লিটনের ওপর প্রত্যাশা বাড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। লিটন জানালেন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তাকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। সেই কাজটা তিনি করতে চান, ‘আমি প্রায় ৯-১০ বছর হয়ে গেছে ক্রিকেট খেলছি। ওইটুকু অভিজ্ঞতা তো হয়েছে। এখনই সময় দায়িত্ব নেওয়ার। তো এখন যদি দায়িত্ব না নেই, তাহলে আর কবে? আর আমি বলছি যে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে, বিষয়টা এই না যে প্রতি ম্যাচে আমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি মানুষ, ভুল হতে পারে।’
টেস্ট হোক আর সীমিত ওভারের ক্রিকেট, কিছুটা আক্রমণাত্মক মনোভাবে খেলতে পছন্দ করেন লিটন। নিজের খেলার ধরন নিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমি যে খুব আক্রমণাত্মক খেলি, ব্যাপারটা তা না। আমার কাছে যেটা মনে হয় স্কোরিং জোনের বল, আমি ওইটাতে স্কোর করার চেষ্টা করি। আর অবশ্যই এখন যে কোনও ফরম্যাটে দেখবেন রান করাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেই। আপনি যদি শেষ গেমও চিন্তা করেন বা তার আগেরটা, দেখবেন আমি একটা জায়গায় গিয়ে কিন্তু রান করতে পারছিলাম না।’
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে লিটন আরও বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমি যে ধরনের ব্যাটিং করি, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট, পুরো বিশ্বের সবাই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটটা খেলে। স্বাভাবিক বিষয় টেস্ট ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং বেশি থাকে। আউট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশি থাকে, স্কোর করার সুযোগও।’
এখন পর্যন্ত ৪৩টি টেস্ট খেলেছেন লিটন। যার মধ্যে সাতটি ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেছেন। বাকি ম্যাচগুলো বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা আছে তার। সবচেয়ে বেশি খেলেছেন সাত নম্বরে, ২০টি ম্যাচ। উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন সফলও হয়েছেন এই পজিশনে ব্যাটিং করে। তার মতে পজিশন কোনও ফ্যাক্টর নয়, ব্যাটিং করতে নেমে চাপ সব পজিশনেই থাকে, ‘চাপ সব জায়গায়। শুধু ওপেন করলে চাপ আর ছয়ে করলে চাপ নেই, এমন না। আমার চেয়ে ভালো ব্যাটার নীচে আছে মিরাজ, সুতরাং ব্যাটার আছে। চাপ না, আমার কাছে মনে হয় টেস্ট ক্রিকেট এমন একটা খেলা, অনেক সময় আছে। তো আপনি যখনই ব্যাটিং করেন, শূন্য থেকে শুরু করে সারাদিন সময় আছে কাজে লাগানোর।’
পাকিস্তান সিরিজে দলের সেরা ব্যাটারের কাছ থেকে ভারত সিরিজে দারুণ কিছুর প্রত্যাশা করছে গোটা দেশ। লিটন কী ভাবছেন? বললেন, ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো দলকে যতটুকু দেওয়া যায়। আমার তরফ থেকে আমি সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করবো।’