আফগানিস্তানের উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদের কথাই ধরা যাক। তারও উত্থানের দিনগুলো ছিল আফগানিস্তান টিমের আরও অনেক ক্রিকেটারের মতোই। পেশোয়ারের উদ্বাস্তু শিবির থেকে। কাপড়ের বলে টেপ জড়িয়ে যেখানে ছেলেবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন শাহজাদ। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। কোয়ালিফাইং রাউন্ডের তিন ম্যাচেই মারকাটারি ব্যাটিংয়ের দেখা মিলেছে শাহজাদের ব্যাটে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৬১ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংয়ের বিরুদ্ধে ৪১। তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ বলে করেছেন ৪০ রান।
আফগান পেসার হামিদ হাসানের একটি কথা তাদের ক্রিকেটের প্রেমের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ২০০৯ সালে কিম্যান আইসল্যান্ডের সঙ্গে এক দুর্দান্ত ম্যাচ জেতার পর তিনি বলেছিলেন, 'আমি অনেক লোককে মরতে দেখেছি, কখনও কাঁদিনি। কিন্তু ক্রিকেট আমার চোখে জল এনেছে।'
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা মরার লড়াইয়ে ৩২ বলে ৫২ রান করেন মোহাম্মদ নবী। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিশাল পুঁজি গড়ে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় আফগানরা। বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠে নবী-শাহজাদের আফগানিস্তান।
কিন্তু বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বছরখানেক আগে আফগান ক্রিকেট বোর্ডের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছিলেন, 'এখন এখানে সবার প্রিয় ক্রিকেট। এমনকি তালেবানরাও ক্রিকেট ভালোবাসেন!'
২০০৩ সালে আফগানিস্তানের হয়ে খেলা শুরু করেন নবী। ২০১৩ সালের মার্চে তার বাবা অপহৃত হয়েছিলেন। আগস্টে নামিবিয়িার বিপক্ষে ম্যাচের আগে খবর পান তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাবাকে পুনরায় ফিরে পাওয়াটা দারুণ ভাবে উদযাপন করেছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে ৪৫ বলে ৮১ রানের পর, বল হাতে ১২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী!
বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা মোহাম্মদ শাহজাদের উত্থানের দিনগুলো ছিল আফগানিস্তান টিমের আরও অনেক ক্রিকেটারের মতোই। পেশোয়ারের উদ্বাস্তু শিবিরে বেড়ে ওঠা। কাপড়ের বলে টেপ জড়িয়ে সেখানে ছেলেবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন শাহজাদ। শাহজাদ বলেন, 'ওই সময় দুটো কাজ ছিল আমাদের কাছে, হয় ক্রিকেট খেলো, না হলে ঘুমাও। অনেক সময় তো আমি ঘুমের মধ্যেও ক্রিকেট খেলতাম।'
হয়তো আর কিছুদিন পর ক্রিকেটের এলিট টেনে প্রবেশ করবে আফগানিস্তান। সেকথা জানিয়ে দিয়েই মোহাম্মদ শাহজাদের দৃপ্ত উচ্চারণ 'যাত্রা কেবল শুরু!'
/এমআর/