টেস্ট ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের শেষ কিনা এই প্রশ্নে যদি কিন্তু আছে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটাই তার শেষ টি-টোয়েন্টি। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজ সাকিবকে ছাড়াই খেলতে হবে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সিরিজের আগে তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব জানিয়েছেন, টিম গেমের মাধ্যমে সাকিবের শূন্যতা তারা পূরণ করবেন তারা।
মঙ্গলবার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের ৯ ক্রিকেটার ভারতে পৌঁছেছে। ঢাকা থেকে দিল্লি গেছেন তারা। দিল্লিতে আজকের রাত থেকে বুধবার তারা গোয়ালিয়রের ফ্লাইট ধরবেন। ওখানেই ৬ অক্টোবর হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পরের দুটির একটি দিল্লিতে, অপরটি হায়দরাবাদে। পরের দুটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে ৯ ও ১২ অক্টোবর। সবগুলো ম্যাচে শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায়।
দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পেসার তাসজিম হাসান সাকিব। সেখানেই উঠে আসে সাকিব প্রসঙ্গ। টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের অভাব কতটা অনুভব করবে বাংলাদেশ দল? জবাবে জুনিয়র সাকিব বলেছেন, ‘অবশ্যই করবে। সাকিব ভাই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। উনি ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব জায়গায় দলকে সাপোর্ট দিতো। আমরা ওই জায়গায় উনার শূন্যতা অনুভব করবো। আমরা চেষ্টা করবো টিম গেম খেলার মাধ্যমে যেন ওই শূন্যতা পূরণ করতে পারি। ’
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কঠোর অনুশীলন করেন ক্রিকেটাররা। ভারতের বিপক্ষে কুড়ি ওভারের সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও বললেন তরুণ এই পেসার, ‘আমরা এখানে অনেকদিন ধরে অনুশীলন করছি। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। সবাই সবার জায়গা থেকে একদম সেরা অবস্থায় আছে বলবো। যার যে শক্তি ও দুর্বলতা সেটা নিয়ে কাজ করেছে।’
বিশ্বের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। বিশ্বের সব ক্রিকেটারের লক্ষ্য থাকে আইপিএলে সুযোগ পাওয়া। যেহেতু ভারতের সঙ্গে ভারতের মাটিতে খেলা, ওখানে ভালো করতে পারলে আইপিএলে সুযোগের পথটা তৈরি হতে পারে। এ ব্যাপারে অবশ্য কিছুই ভাবছেন না বলে জানালেন সাকিব, ‘দেখেন, যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলতে থাকি তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এমনিতেই ডাক আসবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আলাদাভাবে আমি কখনওই টার্গেট করি না। আন্তর্জাতিক ম্যাচে যেন আমি আমার সর্বোচ্চ দিতে পারি। দলের জয়ে যেন আমাদের অবদান থাকে ওই দিকে ফোকাস থাকে। আর মূল ফোকাস থাকে যেন জিততে পারি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেললে ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও অটোমেটিক সুযোগ আসবে, ওইটা নিয়ে আমি কখনও চিন্তা করি না।’
নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করি যখন যেখানে খেলবো, একদম সেরাটা যেন খেলতে পারি। সামনে ভারত সিরিজ আছে, ওই জায়গায় আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। অতীতে কী হয়েছে সেটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেবে অবশ্যই। কিন্তু এটা আমি ওরকম মনে রাখতে চাই না। ভবিষ্যতে কী আছে সেটাতে আমি বেশি ফোকাস করতে চাই। ভারত সিরিজে চেষ্টা করবো যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি।’