বেশিরভাগ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো তাদের স্থানীয় কোচদেরকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলো স্থানীয় কোচের তত্ত্বাবধানে খেলছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রধান কোচ তো দূরের ব্যাপার, কোচিং প্যানেলেও রাখা হয়না কোনও স্থানীয়কে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালের মত, স্থানীয় কারও প্রধান কোচ হওয়ার যোগ্যতা নেই! বাঁহাতি ব্যাটারের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সালাউদ্দিন ও আশরাফুল।
ভারতে চলতি সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন তামিম। সেখানেই স্পোর্টস স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় না, বাংলাদেশের কারও প্রধান কোচ হওয়ার সামর্থ্য আছে। বর্তমানে দুই বা তিন জন আছেন, যারা সহকারী কোচ হওয়ার উপযুক্ত। তবে আমার মনে হয় না, কেউ প্রধান কোচ হওয়ার মতো উপযুক্ত।’
এদিকে তামিমের এমন মন্তব্যের বিরোধিতা না করে উল্টো সমর্থনই করলেন বাংলাদেশি নামী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি ‘টি-স্পোর্টস’-কে বললেন, ‘তামিম সঠিক কথা বলেছে। জাতীয় দলে যে ক্রিকেটাররা প্রথমে আসে, তখন কি আমরা ভাবি সে প্রস্তুত হয়ে এসেছে। খেলোয়াড়দের সময় দেওয়া হয়। তাদের যদি ৫ বছর লাগে তৈরি হতে, তখন তো কোচদেরও সময় লাগবে। কোচদের তো গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ক্রিকেটারদের অনূর্ধ্ব-১৯ বা এ দলে তৈরি করে খেলাচ্ছেন, কোচদের কি সেই সুযোগ দিচ্ছেন?’
দেশি কোচরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগ্রহী নয়। তারা বরং বেশি পছন্দ করেন বিপিএলের দলের দায়িত্ব নিতে। এটা অর্থনৈতিক কারণে বলেই মনে করেন সালাউদ্দিন, ‘আমরা হয়তো বিপিএলে নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখাই, প্রথম শ্রেণিতে না। সেখানে একমাস কাজ করলে হয়তো ৩০ হাজার টাকা পাবে। একটা কোচ কেন ৭০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে সেখানে যাবে। এখন মনে হয় এক লাখ টাকা পায় কোচরা (সেটাও অনেক কম)। খেলোয়াড় যদি ম্যাচ ফি পায়, তাহলে কোচদেরও দেওয়া উচিত।’
একই অনুষ্ঠানে তামিমের বক্তব্য নিয়ে সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলও বলেছেন প্রায় একই কথা। তিনি বললেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সুজন ভাই, সালাউদ্দিন ভাইরা কাজ করেন না। কারণ বেতন কম। সৌরভ গাঙ্গুলি বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথম শ্রেণির কোচদের বেতন ডাবল করে দিয়েছিলেন। আমাদের কেউ সেটা করেননি।’