প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে সহজেই হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে ২১.৫ ওভারে ১০৪/৩, লক্ষ্য ১০৬ (স্টাবস ৩০*, রিকেলটন ১*; মারক্রাম ২০, ডি জর্জি ৪১, বেডিংহ্যাম ১২)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী। 

ম্যাচসেরা: কাইল ভেরেইন। 

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৯.৫ ওভারে ৩০৭/১০, বাংলাদেশের লিড ১০৫ রান (হাসানা ৪*; সাদমান ১, মুমিনুল ০, শান্ত ২৩, মুশফিক ৩৩, জয় ৪০, লিটন ৭, জাকের ৫৮, নাঈম ১৬, তাইজুল ৭, মিরাজ ৯৭)

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৮.৪ ওভারে ৩০৮/১০, লিড ২০২ (রাবাদা ২*; মারক্রাম ৬, স্টাবস ২৩, বেডিংহ্যাম ১১, ডি জর্জি ৩০, ব্রিটজকে ০, রিকেলটন ২৭, মুল্ডার ৫৪, মহারাজ ০, পিয়েট ৩২, ভেরেইন ১১৪)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪০.১ ওভারে ১০৬/১০ (হাসান ৪*; সাদমান ০, মুমিনুল ৪, শান্ত ৭, মুশফিক ১১, লিটন ১, মিরাজ ১৩, জয় ৩৩, জাকের ২, নাঈম ৮, তাইজুল ১৬)

দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ লড়াই করলেও চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য পুঁজিটা পর্যাপ্ত ছিল না। ১০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেট হারিয়েই সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে নিয়েছে। যার মধ্য দিয়ে এশিয়া অঞ্চলে জয় খরা কাটিয়েছে তারা। এশিয়ায় টেস্ট জিতেছে ২০১৪ সালের পর।   

সকালে বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে সেটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়াটাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো। সকালের শুরুতে ৪.৫ ওভারে বাকি তিন উইকেট তুলে নেন প্রোটিয়াদের দুই পেসার। আগের দিনের সঙ্গে যোগ করতে পারে মাত্র ২৪ রান। শেষ উইকেট হিসেবে মিরাজ ৯৭ রানে ফিরলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৩০৭ রানে। তাতে মাত্র ১০৫ রানের লিডই পেয়েছে স্বাগতিকরা। জবাবে এই রান তাড়া করতে বেগ পেতে হয়নি সফরকারীদের।    

দুই ওপেনার মারক্রাম ও ডি জর্জি মিলে ওপেনিংয়ে যোগ করেন ৪২ রান। তাইজুল মারক্রামকে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন। তার পর আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকা ডি জর্জিকেও ফেরান তিনি। ততক্ষণে ৭১ রান তুলে ফেলেছে প্রোটিয়া দল। বাকিটা সময় স্টাবস মেরে খেলে জয়টাকে ত্বরান্বিত করেছেন। তাইজুল শেষ দিকে বেডিংহ্যামকে (১২) ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেট শিকার করলেও সেটা ছিল সান্ত্বনা পুরস্কার। স্টাবস তার পর লাঞ্চের আগেই নিশ্চিত ৭ উইকেটের জয়।   

দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ৪৩ রানে শিকার করেছেন ৩ উইকেট। 

তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার ডি জর্জি

মামুলি লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে প্রোটিয়া দল। ৪২ রানে তাইজুলের আঘাতে পড়েছে প্রথম উইকেট। তার পরেও জয়ের পথেই আছে তারা। ৭১ রানে তাইজুলের আঘাতে আরেক ওপেনার টনি ডি জর্জির উইকেট পড়লেও জয় থেকে তখন আর ৩৫ রান দূরে সফরকারী দল। ডি জর্জি ব্যক্তিগত ৪১ রানে মেরে খেলতে গিয়ে হাসান মাহমুদকে ক্যাচ দিয়েছেন। ডি জর্জির ৫২ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।  

মারক্রামকে ফেরালেন তাইজুল

১০৬ রানের মামুলি লক্ষ্যে দারুণ সূচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মারক্রাম ও টনি ডি জর্জি দারুণ ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ৪২ রানের সেই ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মারক্রামকে ২০ রানে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন তিনি।    

রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন মারক্রাম

১০৬ রানের লক্ষ্যে দারুণ সূচনা করেছেন প্রোটিয়া দুই ওপেনার এইডেন মারক্রাম ও টনি ডি জর্জি। অষ্টম ওভারে মারক্রামের বিপক্ষে এলবিডাব্লিউর আবেদন উঠলে আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। প্রোটিয়া অধিনায়ক রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন। তখন ১৩ রানে ব্যাট করছিলেন মারক্রাম।  

সেঞ্চুরি হলো না মিরাজের, ১০৬ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ 

ঢাকা টেস্টে চতুর্থ দিন বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে খেলতে শুরু করেছিল তাতে মোটেও সফল হয়নি তারা। প্রায় আধা ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হয়েছে ইনিংস। প্রোটিয়া পেসারদের আঘাতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৭ রানেই গুটিয়ে গেছে। লিড দাঁড়ায় ১০৫ রানের। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১০৬ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে স্বাগতিক দল। 

চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিতে দিন শুরু করলেও শুরুতেই ধাক্কা খেতে হয়েছে। দ্বিতীয় নতুন বল নিতেই প্রথম ওভারে পেসার কাগিসো রাবাদার বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন নাঈম হাসান। তিনি ফিরেছেন ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৩৪ রানের জুটি। দুই ওভার বিরতি দিয়ে আঘাত হানেন আরেক পেসার ভিয়ান মুল্ডার। তার বলে স্টাবসকে ক্যাচ দিয়ে ৭ রানে ফিরেছেন তাইজুল। তাতে দিনের শুরুতেই দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে শেষের পথে গিয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তাইজুলের বিদায়ের আগেই অবশ্য লিড একশতে গিয়ে পৌঁছে। তখনও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রান্ত আগলে ছিলেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য রাবাদার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে থামতে হয়েছে তাকে। মিরাজের ১৯১ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ১টি ছয়।  

এই ইনিংসে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন রাবাদা। ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। ১০৫ রানে ৩টি শিকার করেছেন কেশভ মহারাজ। একটি নিয়েছেন ভিয়ান মুল্ডার। 

৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত মিরাজ।বৃষ্টি আর আলোর স্বল্পতায় পুরোপুরি খেলা হয়নি তৃতীয় দিন। মাঠে গড়ায় ৫৭.৫ ওভার। তার পরেও মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ়তায় দারুণ একটি দিন কাটায় বাংলাদেশ। ১০১ রানে পিছিয়ে দিন শুরু করলেও ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা দূরে ঠেলে বাংলাদেশ লিডের পথে আগায় মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ দৃঢ়তায়। জাকের আলীকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়েছেন। অভিষিক্ত জাকের আলী ৫৮ রানে ফিরলে নাঈমকে নিয়ে আবার প্রতিরোধ গড়েন তিনি। মাঝে একবার বৃষ্টিতে ঘণ্টাখানেকের মতো নষ্ট হয়েছে। পরে শেষ দিকে আলোর স্বল্পতায় ম্যাচই শুরু করা যায়নি। তার আগে বাংলাদেশ ৮১ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ২৮৩ রান।

মিরাজ ৮৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেছিলেন। নাঈমের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ৩৩ রানে।