দেশের মাটিতে জাকের আলী অনিক ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের টেস্ট অভিষেক। যদিও সেই ম্যাচে স্মরণীয় কিছু করতে পারেননি তারা। তবুও তাদের ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শুক্রবার প্রথম টেস্টের একাদশে এ দুইজনের মধ্যে একজন থাকবেন বলে ধারণা। ম্যাচের দুই দিন আগে বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় দুজনকেই ভিন্ন ভূমিকাতে দেখা গেছে। তারা একে অন্যকে নানা প্রশ্ন করেছেন, যার উত্তরে উঠে এসেছে টেস্ট ক্রিকেটের অনেক কিছুই।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে দুজনই এখন জাতীয় দলের ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকায় জাকেরের অভিষেক হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ২ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রান করেন তিনি। ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্ট খেলা হয়নি তার, হুট করেই ডাক পেয়ে যান মাহিদুল। চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে শূন্যতে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২৯ রান। শুরুতে ভালো কিছু করতে না পারলেও উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে যে কোনও একজনের সুযোগ মিলতে পারে। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেই নিজেদেরকে প্রমাণ করেছেন তারা। রান পেয়েছেন দুজনই। ছয়ে নেমে জাকের ৪৮ ও সাতে মাহিদুলের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান।
দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই হয়েছে বাংলাদেশের। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে জাকের বিসিবির প্রচারিত ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘এখানকার কন্ডিশন আমাদের জন্য নতুন। আমার পরিকল্পনা ছিল উইকেট কেমন আচরণ করছে, সেটা সম্পর্কে জানা। যখন আমরা বুঝতে পারলাম, সে অনুযায়ী খেলতে শুরু করলাম। উইকেট মন্থর ছিল। আমরা একটা ভালো জুটি গড়তে পেরেছি। পরিকল্পনা করে খেলেছি। এখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হয়, বেশি সুইং থাকে, এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল, সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’
জাকের যেভাবে পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেছেন, সেটি সবার আগে করতে হবে টপ অর্ডারের ব্যাটারদের। নয়তো অতীতের দুঃসহ স্মৃতি নতুন করে দেখা দেবে অ্যান্টিগাতে। দ্রত গতির অ্যান্টিগার উইকেটে বাংলাদেশ যে দুই টেস্ট খেলেছে, প্রত্যেকবার নাকানিচুবানি খেয়েছে। ২০১৮ সালে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালেও পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আসেনি। দুই ইনিংসে বাংলাদেশের রান যথাক্রমে ১০৩ ও ২৪৫। নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে টপ অর্ডার ব্যাটারদের। সাম্প্রতিক সময়ে যাদের পারফরম্যান্স একেবারে যাচ্ছেতাই। অ্যান্টিগাতে এবারও উন্নতি না হলে পুরানো ইতহাস পাল্টানো তো দূরে থাক, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে লিটন-জাকির-সাদমানদের।
লম্বা সময় পর সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে বিসিবিতে ফিরেছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ দলে কাজ শুরু করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকেই। এবার দলটা তুলনামূলক তরুণ হলেও তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। দুই দিন আগে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘এবারের দলটি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারা নিজেদের সেরাটা দেবে।’