জাকের-তাইজুলের জুটিতে চতুর্থ দিনে গেলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

তৃতীয় দিনের সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৮ ওভারে ২৬৯/৯ (শরিফুল ৫*, তাসকিন ১১*, জাকের ৫৩, তাইজুল ২৩, মিরাজ ২৩, লিটন ৪০, মুমিনুল ৫০, দিপু ১৮, জাকির ১৫, জয় ৫), বাংলাদেশ ১৮১ রানে পিছিয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ১৪৪.১ ওভারে ৪৫০/৯ (গ্রিভস ১১৫*, শামার ১১*, সিলস ১৮, রোচ ৪৭, আলজারি ৪, ডা সিলভা ১৪, ব্র্যাথওয়েট ৪, কার্টি ০, লুইস ৯৭, হজ ২৫, আথানেজ ৯০)

লাইট মিটারে আলোর স্বল্পতা নিয়ে সতর্কবার্তা পেলেন আম্পায়ার। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঘোষণা আসে। তাতে এদিন অলআউট হওয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশ আরেকদিন প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পেলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪৫০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৬৯ রানে রবিবারের খেলা শেষ করেছে সফরকারীরা। মাত্র এক উইকেট হাতে রেখে তারা এখনও ১৮১ রানে পিছিয়ে। শরিফুল ৫ ও তাসকিন ১১ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন।

২ উইকেটে ৪০ রানে দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে তৃতীয় দিন তারা আরও ৭ উইকেট হারিয়ে যোগ করলো ২২৯ রান। মুমিনুল হক ৫০ রান করে নজর কাড়েন। লিটন দাস (৪০) অল্পের জন্য হাফ সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হন। জাকের আলী দ্বিতীয় ফিফটি করে ৫৩ রানে আউট হন। তাইজুল ইসলাম তার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটিতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসকে চতুর্থ দিনে নিতে পেরেছে।

আলজারি জোসেফ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। জেইডেন সিলস ও জাস্টিন গ্রিভস নেন দুটি করে উইকেট।

হাসানের আউটে বিপদে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লিড দেওয়ার পথে বাংলাদেশ। ৯ উইকেট তারা হারিয়ে ফেললো দেড়শরও বেশি রানে পিছিয়ে থাকতে। 

জাস্টিন গ্রিভসের বল হাসান মাহমুদের ব্যাট ছুঁয়ে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো আলিক আথানেজের হাতে জমা পড়ে। ২৫৭ রানে নবম উইকেট হারালো।

সিলসের অবিশ্বাস্য ক্যাচে জাকেরের বিদায়

জাস্টিন গ্রিভসের বল ভাসিয়ে দেন বাউন্ডারির উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাতাসে ভাসা বলের সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জেইডন সিলস। ২৪৬ রানে ৮ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। জাকের ৮৯ বলে চারটি চারে ৫৩ রান করেন।

বাংলাদেশের ইনিংস সেরা জুটি ভাঙার পর জাকেরের ফিফটি

মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট পড়ার পর জাকের আলীর সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাইজুল ইসলাম। দুজনে মিলে ইনিংস সেরা জুটি গড়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তা ভেঙে গেলো তাইজুলের বিদায়ে। ৮৯তম ওভারে আলজারি জোসেফের নিচু বল তার অফস্টাম্পে আঘাত করে। তাতে ভেঙে যায় ১১৫ বলে ৬৮ রানের জুটি। ৬৩ বলে ৩ চারে তাইজুল ২৫ রান করেন। ২৩৪ রানে সাত উইকেট হারালো বাংলাদেশ।

পরের ওভারে বাউন্ডারি মেরে জাকের দেখা পান হাফ সেঞ্চুরির। ৮৫ বলে চারটি চারে দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটি করলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্কোর দুইশ পার হলো

৬ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ দুইশ রানের দেখা পেয়েছে। জাকের আলী ও তাইজুল ইসলামের জুটিতে তারা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।

হতাশ করলেন মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় তিনি ভালো অবদান রাখতে পারেননি। ৬৭ বলে ২৩ রানে আউট হন বাংলাদেশি ব্যাটার। আলজারি জোসেফের বলে লুইসের ক্যাচ হয়ে থামেন অধিনায়ক। 

মুমিনুল, লিটনকে হারিয়ে চা বিরতিতে বাংলাদেশ

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে এক উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চ ব্রেকের আগে জুটি বাঁধা মুমিনুল হক ও লিটন দাস তাদের জুটিকে লম্বা করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৬২ রানের জুটি ভেঙে যায় দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি সময়ে। মুমিনুল হাফ সেঞ্চুরি করার পরের বলে এলবিডব্লিউ হন। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে জুটি বড় করতে পারেননি লিটন, হয়নি হাফ সেঞ্চুরিও। ৪০ রান করে থামেন তিনি শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে। মিরাজ ও জাকের আলী অপরাজিত জুটিতে তৃতীয় সেশন শুরু করবেন। এই সেশনে বাংলাদেশ ৬০ রান করেছে ২ উইকেট হারিয়ে। তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬৫ রান।

৪০ রান করে বোল্ড লিটন, বাংলাদেশের দেড়শ

মুমিনুল হক আউট হওয়ার পর বেশ সতর্ক ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। শামার জোসেফের শর্ট লেংথের বল তার ব্যাটে ইনসাইড এজ হয়ে স্টাম্প ভাঙে। তার ৭৬ বলে ৪০ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি চার। ১৪৫ রানে বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেট পড়লো।

কিছুক্ষণ পর জাস্টিন গ্রিভসের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের সিঙ্গেলে বাংলাদেশ দেড়শ রান ছোঁয়।

হাফ সেঞ্চুরি করেই আউট মুমিনুল

দ্বিতীয় সেশনের চতুর্থ ওভারে মুমিনুল হক হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান। ১১৫ বলে ফিফটি করেন তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলে জেইডেন সিলসের এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন মুমিনুল। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। ১১৬ বলে ৩ চারে ৫০ রান করেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার। লিটন দাসের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১২৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারালো সফরকারীরা।  

মুমিনুলের ব্যাটে আশা জাগিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪৫০ রানের জবাবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এখনও ৩৪৫ রানে পিছিয়ে তারা। তবে ভালো একটা লড়াইয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন দুই সিনিয়র ব্যাটার মুমিনুল হক ও লিটন দাস। এই সেশনে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ৬৫ রান, হারিয়েছে একটি উইকেট।

সকালে মাঝের ওভারে শাহাদাত হোসেন দিপু স্লিপে ক্যাচ দেন। মুমিনুলের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৫ রানের। তারপর লিটন ক্রিজে নেমে সতর্ক ব্যাটিং করলেন। দুজনের ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লাঞ্চে বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ১০৫ রান। মুমিনুল ৩৮ ও লিটন ২১ রানে অপরাজিত আছেন।

লিটনের বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের একশ

৪৫তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারেন লিটন দাস। তাতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের স্কোর একশ ছাড়ালো। লাঞ্চের আগে শেষ ওভারে বাংলাদেশ সেঞ্চুরি করলো। ক্রিজের অন্য প্রান্তে আছেন মুমিনুল হক।

স্লিপে ক্যাচ দিলেন দিপু

তৃতীয় দিন ক্রিজে এক ঘণ্টাও পার করতে পারলেন না শাহাদাত হোসেন দিপু। দিনের ১৩তম ওভারে কেমার রোচের বলে আউটসাইড এজ হয়ে স্লিপে কাভেম হজের ক্যাচ হলেন বাংলাদেশি ব্যাটার। ৭১ বল খেলে ১৮ রান করেন তিনি। মুমিনুল হকের সঙ্গে তার জুটিতে এসেছে ৪৫ রান। ৬৬ রানে তিন উইকেট হারালো বাংলাদেশ।   

বাংলাদেশের পঞ্চাশ

২ উইকেটে ৪০ রানে দিনের খেলা শুরু করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন দিপুর জুটিতে পঞ্চাশ ছুঁয়েছে তারা।

মুমিনুল-দিপুর ব্যাটে নতুন দিনের লড়াই শুরু

অ্যান্টিগা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছে। শাহাদাত হোসেন দিপুকে নিয়ে মুমিনুল হক ক্রিজে। ২ উইকেটে ৪০ রানে দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ।

অ্যান্টিগায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৬১ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর টেলএন্ডার দুই ব্যাটারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন জাস্টিন গ্রিভস। কেমার রোচ, জেইডেন সিলসকে আউটই করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের। দশ নম্বরে নামা শামার জোসেফকে তো আউটই করা যায়নি। এমন ঘটনা এই প্রথম নয়, আগেও ঘটেছে। দলের বিপদগ্রস্ত অবস্থায় টেলএন্ডারকে নিয়ে প্রতিরোধ করার ঘটনা অহরহ আছে ক্রিকেটে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটি যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্টিগাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল্পরানে বেঁধে ফেলার পর সুযোগটি হেলায় হারিয়েছে সফরকারীরা। এখন তাদের দেওয়া ৪৫০ রানের জবাবে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষাতে বাংলাদেশ।