সংক্ষিপ্ত স্কোর: ২য় দিনের খেলা,
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৭ ওভারে ৭০/১ (ব্র্যাথওয়েট ৩৩*, কার্টি ১৯*, লুইস ১২)
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭১.৫ ওভারে ১৬৪/১০ (নাহিদ ০*, হাসান ৫, মিরাজ ৩৬, তাসকিন ৮, তাইজুল ১৬, সাদমান ৬৪, জাকের ১, লিটন ১, দিপু ২২, জয় ৩, মুমিনুল ০)
জ্যামাইকা টেস্টে বাংলাদেশের ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যদিও দিন শেষে তারা ৯৪ রানে পিছিয়ে। বাংলাদেশের করা ১৬৪ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের স্কোর ১ উইকেটে ৭০ রান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৩৩ ও কিসি কার্টি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। দুজনের জুটি ৪৫ রানের, বল খেলেছে ১৪৪টি।
দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ খেলা শুরু করেছিল ২ উইকেটে ৬৯ রানে। সাদমান ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন দিপু দিন শুরু করেন। শামার জোসেফের আগুন বোলিংয়ে ১৫ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাদমান ৬৪ রান করেছিলেন। তার ইনিংসই ছিল দিন শেষে সর্বোচ্চ।
৯৮ রানে বাংলাদেশের ছয় উইকেট পড়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের প্রতিরোধ টেনেটুনে লাঞ্চের পর আধঘণ্টা পার করে। এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু আনেন আলজারি জোসেফ। তারপর সিলস বাকি তিন উইকেট তুলে নেন। শুরু থেকে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা এই পেসার বোলিং ফিগার চোখে পড়ার মতো। ১৫.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান দেন তিনি, মেডেন ১০ ওভার! উইকেটও নিয়েছেন সর্বোচ্চ চারটি। বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৬৪ রানে।
জবাব দিতে নেমে চা বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ ওভারে করে ১৬ রান। শেষ সেশনের শুরুতে নাহিদ রানা ফেরান মিকাইল লুইসকে। তারপর আর কোনও উইকেট হারায়নি উইন্ডিজ। যদিও শেষ দিকে মিরাজের এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন ব্র্যাথওয়েটকে। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রিভিউ নিয়ে টিকে যান।
রিভিউ নিয়ে টিকে গেলেন ব্র্যাথওয়েট
দলীয় ২৫ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। মিকাইল লুইস ১২ রানে থামেন। তারপর কিসি কার্টিকে নিয়ে স্বাগতিকদের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ৩৩তম ওভারে বল হাতে নিয়ে তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজের তৃতীয় ওভারে উইন্ডিজ অধিনায়কের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করে সাড়া পান তিনি। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ব্র্যাথওয়েট, ইম্প্যাক্ট আউটসাইড ছিল।
চা বিরতির পর নাহিদের আঘাত
চা বিরতির পর উদ্বোধনী জুটি ভাঙলো বাংলাদেশ। নাহিদ রানা বল হাতে নিয়ে মিকাইল লুইসকে ১২ রানে লিটন দাসের ক্যাচ বানান। ২৫ রানে ভাঙলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি।
তাসকিন-হাসানের দারুণ বোলিং সামলে চা বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
৬ উইকেটে ১২২ রানে দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। জেইডেন সিলসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাকি চার উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রানে থামে তারা। এরপর চা বিরতির আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ ওভার খেলেছে, করেছে মাত্র ১৬ রান। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে উইকেট বাঁচিয়ে চা বিরতিতে গেছেন দুই ওপেনার মিকাইল লুইস ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ১০ রানে ব্র্যাথওয়েট ও ৫ রানে লুইস অপরাজিত্ আছেন।
সিলসের তোপে ১৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রথম দিন একমাত্র সেশনে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৬৯ রান। আগের দিনে দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন দিপু পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি নিয়ে রবিবার খেলা শুরু করেন। শামার জোসেফের আগুন বোলিংয়ে ১৫ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাদমান ৬৪ রান করেছিলেন। তার ইনিংসই দিন শেষে সর্বোচ্চ।
৯৮ রানে বাংলাদেশের ছয় উইকেট পড়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের প্রতিরোধ টেনেটুনে লাঞ্চের পর আধঘণ্টা পার করে। এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু আনেন আলজারি জোসেফ। তারপর সিলস বাকি তিন উইকেট তুলে নেন। শুরু থেকে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা এই পেসার বোলিং ফিগার চোখে পড়ার মতো। ১৫.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান দেন তিনি, মেডেন ১০ ওভার! উইকেটও নিয়েছেন সর্বোচ্চ চারটি। বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৬৪ রানে।
ষষ্ঠ বোলার হিসেবে পুরুষদের টেস্ট ইনিংসে ৫ বা তারও চেয়ে কম রান দিয়ে চার বা তার বেশি উইকেট নিলেন সিলস। তার ইকোনমি রেট ০.৩১, ১৯৭৮ সালের পর পুরুষদের টেস্ট ইনিংসে যে কোনও বোলারের জন্য সবচেয়ে কম!
একই ওভারে সিলসের দ্বিতীয় শিকার মিরাজ
তাসকিন আহমেদের পর একই ওভারে জেইডেন সিলসের শর্ট বলে বিদায় নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইন্ডিজ পেসারের বল পুল করতে গিয়ে ডিপ ফা্ইন লেগে শামার জোসেফের ক্যাচ হন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৭৫ বলে ২ চারে ৩৬ রান করেন তিনি। ১৬০ রানে নবম উইকেট হারালো সফরকারীরা। ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন নাহিদ রানা।
ডা সিলভার হাত ফসকে আথানেজের ক্যাচ হলেন তাসকিন
মেহেদী হাসান মিরাজকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। দারুণ আঁটসাট বোলিংয়ের পর তাকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানালেন জেইডেন সিলস। বল তার ব্যাটে আউটসাইড এজ হয়ে বেশ উঁচুতে কিপার জশুয়া ডা সিলভার দিকে ছুটেছিল, তার হাত ফসকে বল চলে যায় পেছনে। দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো আলিক আথানেজ পেছন দিকে লাফিয়ে দুই হাতে বল লুফে নেন। ১৫৯ রানে আট উইকেট হারালো বাংলাদেশ। তাসকিন এক চারে ১৬ বল খেলে ৮ রান করেন। দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন হাসান মাহমুদ।
৬৬ বলে ১৬ রান করে ফিরলেন তাইজুল
৯৮ রানে ছয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনের শেষ দিকে ঘণ্টাখানেক প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় সেশনে এই জুটি আধঘণ্টার মতো টিকলো। আলজারি জোসেফের বলে স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের ক্যাচ হলেন তাইজুল। ১১৬ বলে ৪১ রানের জুটি ভাঙলো তার বিদায়ে। ৬৬ বলে ১৬ রান করেছিলেন তিনি। ১৩৯ রানে সাত উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন তাসকিন আহমেদ।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর মিরাজ-তাইজুলের প্রতিরোধে শেষ প্রথম সেশন
জ্যামাইকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনে ২৮ ওভারে ৫৩ রান যোগ হলো চার উইকেটের বিনিময়ে। বলা যায় এই সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের আর সাফল্য পেতে দেননি।
শামার জোসেফ তিনবার বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আঘাত করেন। জাকের আলী, লিটন দাস ও হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলামকে আউট করেন তিনি। জেইডেন সিলস বল হাতে ছিলেন মিতব্যয়ী। ১৩ ওভার বল করে মাত্র চার রান দেন, মেডেন ৯ ওভার। শাহাদাত হোসেন দিপুর উইকেটও নেন তিনি।
এখন দেখার অপেক্ষা, বিরতির পর কত লম্বা সময় ধরে মিরাজ ও তাইজুল প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারেন। লাঞ্চ ব্রেকের আগে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১২২ রান।
মিরাজ-তাইজুলের প্রতিরোধ
৯৮ রানে বাংলাদেশ ছয় উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম সপ্তম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছেন। পঞ্চাশের বেশি বল তারা খেলে বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা করছেন।
সাদমানকে হারিয়ে আরও বিপদে পড়লো বাংলাদেশ
প্রথম দিনের মতো দৃঢ় ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন সাদমান ইসলাম। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট যাওয়ার হিড়িক পড়েছিল। একে একে শাহাদাত হোসেন দিপু, লিটন দাস ও জাকের আলীকে বিদায় নিতে দেখলেন তিনি। তারপর নিজেও প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটলেন। ৯৮ রানে ছয় উইকেট হারালো বাংলাদেশ। জাকেরকে ফেরানোর পর শামার জোসেফ টানা দ্বিতীয় ওভারে সাদমানকে জশুয়া ডা সিলভার ক্যাচ বানালেন। ১৩৭ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৬৪ রান করেন তিনি। পানি পানের বিরতির পরই তাকে ফিরতে হলো। আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন তাইজুল ইসলাম।
দিপুর পর দ্রুত লিটনের বিদায়
লিটন দাস অল্প সময় ক্রিজে থাকলেন। শুরু থেকে স্বস্তিতে ছিলেন না তিনি। জেইডেন সিলসের বলে আউটসাইড এজ হয়ে প্রথম স্লিপে কাভেম হজের ক্যাচ হলেন লিটন। ৬ বলে ১ রান করেন তিনি। ৮৮ রানে বাংলাদেশ হারালো চতুর্থ উইকেট। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন জাকের আলী।
ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না দিপু
৭৩ রানে ভেঙে গেলো সাদমান ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন দিপুর জুটি। ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা রবিবার খেলা শুরু করেছিলেন। দিনের নবম ওভারে শামার জোসেফ বোল্ড করেন দিপুকে। ৮৩ রানে বাংলাদেশ হারালো তৃতীয় উইকেট। ৮৯ বলে ২ চারে ২২ রান করেন দিপু। ১২ রানে নতুন দিন শুরু করেছিলেন তিনি।
সাদমানের ব্যাটে আশা জাগানিয়া শুরু বাংলাদেশের
জ্যামাইকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে শুরু হয়েছে। আগের দিন ভেজা আউটফিল্ডের কারণে মাত্র ৩০ ওভার খেলা হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ২ উইকেটে করে ৬৯ রান। নতুন দিনে ব্যাটিংয়ে আছেন সাদমান ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন দিপু। দুজনের ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি কত বড় হয় সেটাই দেখার অপেক্ষা। এদিন পাঁচ ওভার খেলা হলেও দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন সাদমান।
জ্যামাইকায় প্রথম দিন রাঙালেন সাদমান
জ্যামাইকায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছিল। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাব পড়েছিল কিংসটনের স্টেডিয়ামেও। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে পাঁচ ঘণ্টা মাঠের মেরামত কাজ শেষে খেলা শুরু হয়। প্রত্যাশিতভাবে টসে জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ১০ রানের মধ্যে মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হকের বিদায়ে বিপদসংকেত বাজছিল বাংলাদেশের কানে। কেমার রোচ দুজনকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে ম্যাচ টেনে নেন।
তবে দিন শেষে ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হলো স্বাগতিকদের। দুইবার জীবন পাওয়া সাদমান ইসলাম তার ফেরাটা রাঙালেন হাফ সেঞ্চুরিতে। ১৫ ও ৩৫ রানে আলিক আথানেজ ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের হাত ফসকে বেঁচে যান তিনি। জাকির হাসানের বদলে একাদশে জায়গা পাওয়া এই ব্যাটার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে করলেন ফিফটি, ৯৩ বল খেলে। ৮ রানে আথানেজ ও কাভেম হজের কাছে জীবন পাওয়া শাহাদাত হোসেন দিপুর সঙ্গে তার জুটি ৫৯ রানের। ৩০ ওভারের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৯ রান। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে বেশ স্বস্তিতেই প্রথম দিনের খেলা শেষ করলো সফরকারীরা। ৫০ রানে সাদমান, দিপু ১২ রানে অপরাজিত আছেন।