১১ থেকে ১৫ ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ!

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হার দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। অথচ সিলেটের দারুণ উইকেটে আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সূচনাটা খারাপ ছিল না। ১১ ওভারে বিনা উইকেটে বাংলাদেশ তুলে ফেলেছি ১০০ রান। তার পরই ঘটে ছন্দপতন। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৫ ওভারে বাংলাদেশ দল তুলতে পারে মাত্র ১৯ রান, হারায় তিনটি উইকেট। মূলত এখানেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা ১৬৯ রানের পুঁজি পেয়েছে। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ থেমে যায় ১৫৭ রানে। জিততে পারলে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়তে পারতো স্বাগতিক দল। কিন্তু ওপেনিং জুটিতে ১০৩ রান করেও হারতো হয়েছে তাদের। সোবাহানা মোস্তারি ও দিলারা খাতুন মিলে প্রথম উইকেটে রেকর্ড এই জুটি গড়েন।

৪৬ রান করা সোবহানা ম্যাচ হারার কারণ হিসেবে বলেছেন, ‘১১ ওভার থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত আমাদের রানটা একটু কম হয়ে গেছে। ওই জায়গায় যদি আমরা আরও কিছু রান করতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো। তারপরও আমরা ম্যাচেই ছিলাম। ১৯তম ওভার যদি মেডেন না যেত, শেষ ওভারে ১০/১২ রান লাগলেও সেটি আমরা করতে পারতাম। আমার মনে হয় ১১ থেকে ১৫ ওভারের ওই জায়গাতে আরও ৬ বা ১০ রান করতে পারলে ম্যাচটা সহজ হতো।’

আইরিশ পেসার ওর্লা প্রেন্ডারগাস্টের করা ১৯তম ওভারটি মেডেন হয়েছে। পাশাপাশি এই পেসার ফেরান বাংলাদেশের দুই ব্যাটার রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তারকে। মূলত ওর্লার করা ওভারটিতে রিতুর কয়েকটি ডট বলই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়েছে। শেষ দুই ওভারে জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। ১৯তম ওভারের পরিকল্পনা নিয়ে সোবাহানা বলেছেন, ‘১৯তম ওভারে ডাগ আউটে কোচ-ক্যাপ্টেন যারা ছিলেন, তারা মেসেজ দিচ্ছিলেন অফ সাইডের ফিল্ডার উপরে ছিল; লেগ সাইড নিচে ছিল। আমরা অনায়াসেই কাট বা লেট কাট করতে পারতাম। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা এটাই ছিল অফসাইড থেকে বল বের করা।’

শেষ দুই ওভারে ১৮ রান চেজ করা সম্ভব ছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘১২ বলে ১৮ রান এই উইকেটে এটা সম্ভব। দুর্ভাগ্যবশত ১৯তম ওভারটিতে আমরা মেডেন দিয়ে ফেলেছি। ওদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল এই উইকেটে আমরা ১৭০ করতে পারবো। প্রায় ১১ ওভারে আমাদের একশ রান হয়ে গিয়েছিলো। একটা সময় ম্যাচটা সহজই মনে হচ্ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত লক্ষ্যটা ছুঁতে পারিনি।’
  
সিলেটের উইকেটে আজ রানের বন্যা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড আগে ব্যাটিং করে ১৬৯ রান তুলেছে। জবাবে বাংলাদেশ করতে পারে ১৫৭ রান। উইকেট নিয়ে মিডল অর্ডার এই ব্যাটার বলেছেন, ‘উইকেট খুবই ভালো, যখন ওরা ব্যাটিং করছিল, তখনই বোঝা যাচ্ছিলো উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা সহায়ক। বোলাররা ভালো বল করেছে। আমরা হেরেছি মূলত ফিল্ডিংয়ে কিছু ক্যাচ ছাড়ায়। কিছু গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও মিস হয়েছে। এখানে ১০/১২ রান বেশি হয়ে গেছে। এই ধরনের উইকেটে ১৫০ প্লাস রান হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরাও ১৫০ প্লাস করেছি।’

পরের ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে উন্নতির বিকল্প দেখেন না সোবহানা, ‘ফিল্ডিংয়ে যেখানে আমাদের সমস্যা হয়েছে, সে জায়গায় যদি উন্নতি করতে পারি। তাহলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো করবো।’