ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনওভাবেই রানে ফিরতে পারছেন না লিটন দাস। তিন ওয়ানডে ও দুই টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোন ম্যাচেই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মারার পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১০ বলে করেছেন ৩ রান। যদিও নির্বাচক প্যানেলের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক লিটনের ফর্ম নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন বলেই জানালেন।
সিলেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রাজ্জাক বলেছেন, ‘সব সময় রান করতে হবে এমন কোন কথা নেই। লিটন নিজেই জানে রান না করলে কী হতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সে দ্রুতই ফর্মে ফিরে আসবে এবং আগের চেয়ে শক্তিশালী।’
ব্যাটিং অফফর্মে থাকলেও অধিনায়ক হিসেবে বেশ সফল লিটন। মাঠে দলকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডানহাতি ব্যাটার। নেতৃত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে নির্বাচক রাজ্জাক বলেছেন, ‘দুই ম্যাচে লিটনের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। তার ম্যাচ পরিচালনার সিদ্ধান্তগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে সে তার দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছে।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শামীম হোসেন। দুই ম্যাচের ব্যাট হাতে খেলেছেন ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩ বলে ২৭ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থেকেছেন। দুটি ম্যাচেই শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে লড়াই করার মতো পুঁজি। ২৪ বছর বয়সী এই মারকুটে ব্যাটারকে নিয়ে রাজ্জাক বলেছেন, ‘শামীমকে আমরা শুরু থেকেই দলে নিয়েছিলাম, কারণ এমন ব্যাটারই চাইছিলাম। তবে তার ওপর অনেক প্রত্যাশা ছিল, যা তাকে চাপে ফেলেছিল। সেই সময় তার পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। কিন্তু এখন সে সেই জায়গায় উন্নতি করেছে। এমন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিচ্ছে, সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত।’
বাংলাদেশের বর্তমান বোলিং আক্রমণকে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘আমার ক্রিকেট জীবনের সময়কাল থেকে বলবো, আমাদের দল এখন সব থেকে সেরা বোলিং লাইনআপ নিয়ে খেলছে। আগে আমরা স্পিন নির্ভর ছিলাম। কিন্তু এখন সব ধরনের আক্রমণ আমাদের আছে। এমন কি বেঞ্চেও এখন দুর্দান্ত মানের বোলাররা বসে থাকে। পেস বোলিং শক্তিশালী হওয়ায় দলের ভেতরের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।’