বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্দান্ত রাজশাহীর বিপক্ষে জয় দিয়েই শুরু করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে রংপুর রাইডার্সের কাছে হোঁচট খায় তারা। সোমবার (৬ জানুয়ারি) নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এসে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয় দফার মোকাবেলাতেও দাপট দেখিয়ে ম্যাচ জিতলো বরিশাল। জয়ের নায়ক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার অপরাজিত ৮৬ রানের উপর দাঁড়িয়ে বরিশাল ১৫ বল আগেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ১৬৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। ১৬৯ রানের জবাবে খেলতে নেমে শুরুতেই অবশ্য বরিশাল তাদের ওপেনার প্রীতম কুমারকে হারায়। মোহর শেখের বলে ক্লিন বোল্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে খেলেন তিন রানের ইনিংস। এরপর কাইল মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম। দুইজনের ৪১ রানের জুটি ভাঙ্গেন মোহর শেখ। প্রীতমের মতো মায়ার্সকেও বোল্ড করেন মোহর। ১১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ রানের ইনিংসটি সাজান ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। এরপর তাওহীদ হৃদয় ১৪ বলে ১৩ রান করে আউট হলে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম।
চতুর্থ উইকেট মুশফিক ও তামিম মিলে ৪৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুশফিক ২১ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, তামিম চলতি টুর্নামেন্টের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪৮ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় তামিম নিজের ইনিংসটি সাজান।
এর আগে, টস হেরে দুর্বার রাজশাহীর শুরুটা হয়েছিল দারুণ। পাওয়ার প্লে'তেই ১ উইকেটে ৬০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে তারা। কিন্তু শুরুর মতো শেষটা ততটা জমকালো হয়নি। শেষ পাঁচ ওভারে ২ উইকেটে মোটে ৩৫ রান তুলতে পারে তারা। সবমিলিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৮ রান।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই রাজশাহীর দুই ওপেনার মোহাম্মদ হারিস ও জিসান আলম আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। ১৬ বলে ২২ রান করে তানভির ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ হারিস। পরের ব্যাটাররা ভালো শুরু পান। জিসান আলম ২৭ বলে ৩৮ন রানের ইনিংস খেলে আউট হন। অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় খেলেন ৩৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংস। ইয়াসির আলীর ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংস। উপরের ব্যাটাররা সবাই ভালো শুরু পেলেও কেউই ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। শেষ দিকে আকবর আলীর ৯ বলে ১ ছক্কায় খেলা ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংসে ১৬৮ রানে পৌঁছৈ রাজশাহীর ইনিংস।
ফরচুন বরিশালের বোলারদের মধ্যে শাহেন শাহ আফ্রিদি সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নেন ফাহিম ও তানভীর।