পারিশ্রমিক পরিশোধে ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরকে বিসিবির দুই দিনের আল্টিমেটাম

বিপিএল মানেই বিতর্ক। প্রতি আসরেই একের পর এক বিতর্কে বিপিএল হয় প্রশ্নবিদ্ধ! এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শঙ্কা ছিল এবার বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ঠিকঠাক মতো দিতে পারবে কিনা। শেষ পর্যন্ত শঙ্কাই সত্যি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক যথাসময়ে দিতে পারেননি। এই নিয়ে হইচই কম হয়নি। দুর্বার রাজশাহী তো অনুশীলনই বয়কট করেছে।

চিটাগং কিংসের পারভেজ হোসেন ইমন দল ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছেন। এর বাইরে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার লিখিতভাবে বিসিবির কাছে অভিযোগ করেছেন। সব মিলিয়ে শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছিল, যেখানে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরকে পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে বলা হয়েছে, নয়তো বিসিবি আইনি পদক্ষেপ নেবে।

বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ব্যাপারে অভিযোগ থাকলেও রাজশাহী ও চিটাগংয়ের ইস্যু সামনে এসেছে। বিসিবি বিষয়টি স্বীকার করে এক বিবৃতি দিয়েছে, ‘আমরা সম্প্রতি দেখছি কিছু দলের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য বিষয়ে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এটা আমলে নিয়েছি এবং ইতোমধ্যে এটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছি। বিপিএলের সঙ্গে আমাদের নাম ও বিসিবির সম্মান জড়িত। তাই এটা সিরিয়াসলি দেখবো। ক্রিকেটারদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, আমরা (বিসিবি) এটা দেখবো। আমরা ইতোমধ্যে সকল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকপক্ষকে ডেকেছি। যেসব হয়েছে তা আমরা মেনে নিচ্ছি।’

ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়ার কথা উল্লেখ্য করে বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক যে সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়ার, সেটা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা মিলে বসে আলোচনা করে নেবো। বেশ কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই দূরত্বগুলো ঘোচাতে হবে এবং ক্রিকেটারদের আশ্বস্ত করতে হবে যে বিপিএলের পারিশ্রমিকের যে নিয়ম আছে তা মেনে চলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির মধ্যে যেসব দিকগুলো মেনে চলতে হবে, দল মালিকরা তারা যেন সেসব মেনে চলে তা নিশ্চিত করার জন্য যা করার দরকার বিসিবি সেটাই করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সে কার্যক্রমগুলো চলমান থাকবে।’

প্রায় প্রতি আসরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বলা হয় এই আসরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আসর যায় আর আসে, কিন্তু কিছুই ঠিক হয় না। এবার আসর শুরুর আগে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছিলেন এবারের বিপিএল হবে অন্যরকম। কিন্তু অন্য রকম হয়নি। পুরানো রোগেই আক্রান্ত চলতি বিপিএল। সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘যে বিষয়গুলো হয় সেটা টুর্নামেন্ট ৫০ ভাগ চলে যাওয়ার পর তৈরি হয়। তখন কিন্তু টুর্নামেন্ট বন্ধ করা যাবে না। যে অ্যাকশনগুলো নেওয়ার দরকার বেশিরভাগ হলো আইনসংক্রান্ত। সে অ্যাকশনগুলো আমরা নিচ্ছি। যদি না নিয়ে থাকি… আজকে সে ব্যাপারে যারা এই কাজগুলো করে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কী কী করতে হবে। বিসিবির তরফ থেকে কিছু কিছু জায়গায় শর্টফল আছে, আরেকটু সচেতন হলে এগুলো হতো না। আমাদের হাত তুলে বলতে হবে কোথায় আমাদের ভুল আছে এবং এটা যেন না করে। এটা করার জন্য আমাদের আরও বলিষ্ঠ হতে হবে।’