টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করার আশায় জ্যোতিরা 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিন ম্যাচের এই সিরিজটি জিততে পারলে বাংলাদেশের মেয়েরা ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পেতো। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে যাওয়ায় এখন বাছাই পর্ব খেলতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ হতাশ নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তবে হতাশা ভুলে জ্যোতি এখন সামনে তাকিয়ে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারার হতাশা ভুলতে চান তারা। বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তেমনটাই জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে বাংলাদেশ সময় ভোর রাতে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি। সিরিজ শুরুর আগে বিসিবির ভিডিও বার্তায় নিগার বললেন, ওয়ানডের গ্লানি ভুলতে টি-টোয়েন্টিতে ভালো করার চেষ্টায় থাকবে দল, ‘ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে হতাশা তো আছে। দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। প্রত্যেকের ইচ্ছা ছিল... দ্বিতীয় ম্যাচ জেতার পর একটা আশা ছিল যেন সিরিজ জিততে পারি এবং বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে পারি।’

জ্যোতি আরও বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত সেটি করতে পারিনি। তাই পুরো দলই হতাশ। এখন আমাদের সামনে যেহেতু টি-টোয়েন্টি সিরিজ, আমাদের এখান থেকে যতটা দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে হবে। যদি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করতে পারি, সেটি দল হিসেবে আমাদের অনেক বেশি উজ্জীবিত করবে।’

ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও এবারই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই কেবল দেখা হয়েছিল তাদের। চার ম্যাচে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে তাই বাংলাদেশের জন্য লড়াইটা সহজ হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশের অধিনায়কও সেটি জানেন। তবে তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘ওয়ানডে সিরিজের পর আমার যেটা মনে হয়, দল হিসেবে এখানে গোছানো ক্রিকেট খেলাটা মূল। দল যে মানসিকভাবে একটু ডাউন আছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে একটা ভালো ফল পেতে হবে। আমাদের দলের যে মানসিক অবস্থা, সেটির উন্নতি করার একটা সুযোগ এখন। যেটা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলার মাধ্যমেই সম্ভব হবে।’

ওয়ানডে সিরিজের কোনও ম্যাচেই ব্যাটিং ভালো হয়নি জ্যোতিদের। এক ম্যাচেও দুইশ ছুঁতে পারেনি তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটারদের অন্তত ১৪০ রানের তাগিদ দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘ব্যাটিং বরাবরই আমাদের ভোগাচ্ছে এবং দলের মধ্যে দৃশ্যমান সমস্যা তৈরি করছে। ক্রিকেটাররা যথেষ্ট অনুশীলন করছে, সুযোগ পাচ্ছি আমরা সবাই। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেটি ম্যাচে পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত হচ্ছে না। এটা একটা টেনশনের বিষয়।’

জ্যোতি আরও বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি অন্তত ১০০ স্ট্রাইক রেটে খেলতে না পারি... ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে যদি ১৪০ রান না করেন, তাহলে জেতার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটও খেলা যায় না। তাই এদিক থেকেও স্ট্রাইক রেট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’