বিপিএলে পারিশ্রমিক ইস্যুতে চলমান রয়েছে দুর্বার রাজশাহীর নাটক। প্রতিদিনই একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) জানা গেলো দলের ম্যানেজরা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেহরাব হোসেন অপি কোনও পারিশ্রমিক এখন পর্যন্ত পাননি। তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দ্বিতীয় দফায় দেওয়া চেক বাউন্স হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তবে এই ব্যাপারে দলের ম্যানেজার অপি কিছু জানেন না বলেই জানালেন।
গত ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ম্যাচের এক দিন আগে খেলোয়াড়েরা প্রতিশ্রুত প্রথম ২৫ শতাংশ টাকা না পাওয়ার প্রতিবাদে অনুশীলন বয়কট করেন। পরবর্তীতে তাদের ২৫ শতাংশ টাকা নগদ পরিশোধ করা হলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন। এরপর ঢাকায় ফিরে পাওনা না পেয়ে পুরো দল ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেন। স্থানীয় ক্রিকেটারদের চেক দিয়ে বোঝানো গেলেও বিদেশিরা রুম বন্ধ করে হোটেল বন্দি হয়ে ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় দফায় দেওয়া চেকটি বাউন্স করেছে কারও কারও। যদিও এই ব্যাপারে কোন ক্রিকেটারই নাম প্রকাশ করছেন না। এদিকে দলের ম্যানেজার অপি জানিয়েছেন চেক বাউন্সের কথা তিনি জানেন না।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে সাবেক ক্রিকেটার ও রাজশাহীর ম্যানেজার অপি অভিযোগ করেছেন ক্রিকেটাররা কিছু না কিছু পারিশ্রমিক পেলেও তিনি নিজে কিছুই পাননি। এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমি পাইনি কিছুই। তবে অন্য প্লেয়াররা প্রথম যেটা ২৫ ভাগ দেওয়ার কথা ছিল সেটা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামেই। দুইদিন আগে ২৫ ভাগের আরও একটি চেক দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি বাউন্স হয়েছে কিনা আমি জানি না। আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ বলেনি বাউন্স করেছে।’
জানা গেছে, চেক ডিপোজিট করতে গিয়ে ক্রিকেটাররা আবারও প্রতারিত হয়েছেন। অ্যাকাউন্টে চেকের পরিমাণ অর্থ না থাকায় শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর এক ক্রিকেটার জানিয়েছেন, ‘আমরা চেক ব্যাংকে দেওয়ার পর আবার বাউন্স করেছে। সবার চেকই বাউন্স করেছে। মালিক পক্ষ বলেছে পরবর্তী ম্যাচের আগে সবার টাকা ক্লিয়ার করে দেয়া হবে।’
শুধু ক্রিকেটারদের অর্থই নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের হোটেল বিলও পরিশোধ করতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। যার কারণে ঢাকায় একটি হোটেলে উঠার পরও ম্যাচের দিন সকালে হোটেল বদল করতে হয়েছে। এই মুহূর্তে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আছে রাজশাহী। যদিও প্রায় এক সপ্তাহ তাদের অপেক্ষা করতে হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পরই জানা যাবে রাজশাহী প্লে-অফ খেলতে পারবে কিনা। সেই পর্যন্ত ক্রিকেটারদের হোটেলে রাখতে হবে। ক্রিকেটাররা এখন কোথায় এমন প্রশ্নে অপি বলেছেন, ‘আমাদের সব খেলোয়াড় হোটেলেই আছেন। কেউ হোটেলের বাইরে যায়নি। আপনারা দেখেছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা আমাদের দলে গতকাল (সোমবার) খেলেছেন। তারা এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে আছেন। যদি সুপার ফোরে যেতে পারি, অবশ্যই তারা খেলবেন।’
এদিকে অপি কোন পারিশ্রমিক না পেলেও সেটি নিয়ে চিন্তিত নন। ক্রিকেটারদের চেক দেওয়া হলেও অপিকে কোন চেক দেওয়া হয়নি। মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে যথাসময়ে পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হবে, ‘আমাকে কোনও চেক দেয়নি। যদিও আমি ওটা নিয়ে চিন্তিত নই। ওনারা আমাকে বলেছেন, পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেবেন। আমাকে একটা তারিখ দিয়েছেন।’