অভিষেক শর্মা রেকর্ডবই ওলটপালট করলেন। তাতে ভারত ইংল্যান্ডের সামনে রানপাহাড় গড়ে। যেমনটা শুরু হয়েছিল তাতে আড়াইশ না হওয়ার আক্ষেপ স্বাগতিকদের থাকতেই পারে। সেই আক্ষেপ আগুন হয়ে ঝরলো বোলারদের হাত ধরে। ইংল্যান্ডকে একশই করতে দেয়নি। ১১তম ওভারের তিন বল বাকি থাকতে ৯৭ রানে তাদেরকে অলআউট করেছে ভারত। ১৫০ রানের বিশাল জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ এ এগিয়ে থেকে শেষ করলো।
পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে অভিষেক ১৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। ওই ওভারে ২৫ রান তোলে ভারত। যুবরাজ সিংয়ের চেয়ে পাঁচ বল বেশি খেলে ফিফটি অভিষেকের, দ্বিতীয় দ্রুততম তার।
ছয় ওভারে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৯৫ রান, যা তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে স্কটল্যান্ড ও গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮২ রান ছিল প্রথম ছয় ওভারে এতদিন সর্বোচ্চ।
এই সময়ে ২১ বলে ৫৮ রান করেন অভিষেক। পাওয়ার প্লেতে ভারতের হয়ে এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। তিনি পেছনে ফেলেছেন ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করা জয়সাওয়ালের ৫৩ রানকে। ১১তম ওভারে ৫ চার ও ১০ ছয়ে ৩৭ বলে সেঞ্চুরিও করেন এই ব্যাটার।
তিলক ভার্মাকে নিয়ে ৪৩ বলে ১১৫ রানে জুটি গড়েন অভিষেক। নবম ওভারে তিলক (২৫) বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। এরপর শিবম দুবে ও অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে ১৮ বলে ৩৭ ও ১৩ বলে ৩৫ রানের আরেকটি ঝড়ো জুটি ছিল তার।
১৮তম ওভারের শেষ বলে থামে অভিষেকের তাণ্ডব। ৫৪ বলে ৭ চার ও ১৩ ছয়ে ১৩৫ রান করেন তিনি। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস তো খেলেছেনই, সবচেয়ে বেশি ছক্কাও তার।
শিবম ১৩ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ৯ উইকেটে ২৪৭ রান করে ভারত।
ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্রাইডন কার্স সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি পান মার্ক উড।
লক্ষ্যে নেমে শুরুটা মন্দ হয়নি ইংল্যান্ডের। ২ ওভারে ২৩ রান তোলে উদ্বোধনী জুটি। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে বেন ডাকেটের বিদায়ে এই জুটি ভাঙে।
ফিল সল্ট একাকী লড়াই করেন। অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের যাওয়া আসা দেখেছেন অসহায় চোখে।
পঞ্চম ওভার থেকে শুরু হয় ব্যাটিং ধস। ১ উইকেটে ৪৮ রান করা ইংল্যান্ড আর ৪৯ রান করে বাকি ব্যাটারদের হারায়। এর মধ্যে এক ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়ে বাজিমাত করেন অভিষেকও। ইংল্যান্ডের হয়ে ২৩ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন সল্ট। আর কেবল জ্যাকব ব্রেথেল (১০) দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন।
মোহাম্মদ শামি ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পান বরুণ চক্রবর্ত্তী, শিবম ও অভিষেক।