মাশরাফি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো হয় মাঠে প্রতিবাদটা জানাতে পারলে। আমি কোনও সময় বাড়তি কথা বলতে পছন্দ করি না, সামনে কী হবে সেই সব বলি না। অবশ্যই চাই সামনের ম্যাচটায় আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলা হোক। কিন্তু তারপরও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্টি নিয়ে মাঠে নামতে পারবো না। সানির বিষয়টা আমরা গ্রহণ করেছি। কিন্তু তাসিকেনর বিষয়টা চেপে রেখে কাজ করা খুবই কঠিন হবে। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।’
আরাফাত সানির ব্যাপারে আইসিসির দেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলেও তাসকিনের বিষয়টি মানতে পারছে না দলের কেউই। দলের মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এ প্রসঙ্গে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আমার নিজ জীবন দিয়ে অনেক কিছু দেখেছি, আমার জন্য এটা মেনে নেওয়া কঠিন হতো না। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়ের বিপক্ষে এভাবে অভিযোগ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দলের সবার মানসিক অবস্থা কেমন, এটা বোঝানো সম্ভব নয়। তাসকিন বা সানির সঙ্গে আমরা শেষ সময়গুলো কিভাবে কাটিয়েছি। ওই ছেলেদের অবস্থা আমরা ফিল করতে পারছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো টিম এক হয়েই মাঠে নামবে। চেষ্টা করবো সেরা ক্রিকেট খেলার।’
দুই অস্ত্রকে হারিয়ে মাশরাফি এখন তাকিয়ে পুরো দলের দিকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে দলনেতা মাশরাফি বলেন, ‘আমি সবার দিকেই তাকিয়ে আছি। দলের সবার ছোট ছোট কন্ট্রিবিউশনেই ম্যাচ জেতা সম্ভব। আমি বিশেষ কোনও একজনের দিকে নয়; সবার দিকেই তাকিয়ে আছি।’
টুর্নামেন্টের প্রত্যেকটি ম্যাচে স্ট্রাইক বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাসকিন। বিনা দ্বিধায় তরুণ এই পেসারের হাতে বল তুলে দিয়েছেন মাশরাফি। সোমাবারের ম্যাচে এটা সম্ভব হচ্ছে না। কিভাবে পরিকল্পনা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেস আক্রমণ নিয়ে চিন্তা করা পরের ব্যাপার। টিমের অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই ভালো নয়। অবশ্যই এখন আমাদের কিছু পরিকল্পনা থাকবে।। যে ছেলেটা শেষ আট ম্যাচে ভালো শুরু এনে দিয়েছে; তাকে ছাড়া খেলতে নামাটা আসলেই কঠিন। আমাদের জন্য এটা শুধু হতাশার নয়। তাসকিনের কারণে আমাদের পরিকল্পনায় পুরো পরিববর্তন আনতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন একটা সময় আমরা ধাক্কা খেলাম, যখন আমাদের জন্য এটা ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুইজন খেলোয়াড়কে আমরা দুইদিন আগে পেলেও ম্যানেজ করে ফেলতে পারতাম। এর থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের পাশে ছিলো। আমরাও চেষ্টা করবো আমাদের পক্ষ থেকে ভালো কিছু একটা করার! তবে কাজটা অবশ্যই কঠিন।’
মুস্তাফিজ পুরো ফিট নয়, তাসকিন নেই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সেক্ষেত্রে স্পিনারদের কাঁধে দায়িত্বটা চাপছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘দায়িত্বতো অবশ্যই বেড়েছে। তবে এই উইকেটে ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের খেলানো হয়ে থাকে। যে দুইজন এই কন্ডিশনে নিজেদের ভালো মানিয়ে নিতে পেরেছে, তারাই নেই। যেই দুইজন আসছে তাদেরকে চাপও দিতে চাচ্ছি না। আমি চাই তারা মাঠে নামুক এবং উপভোগ করুক খেলাটাকে। ’
এর আগে বাংলাদেশ অনেকবার চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছে কিন্তু প্রতিবারই তারা জিতে এসেছে। এবার এই চ্যালেঞ্জটা কতটুকু নিতে পারছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করবো। প্রতিপক্ষ হিসেবে আমাদের গ্রুপটা অনেক বেশি কঠিন। অস্ট্রেলিয়া আছে। তাদের ব্যাটিং অর্ডারসহ বোলিং আক্রমণও কঠিন। কাজটা এমনিতেই কঠিন ছিলো এখন আরও কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের অবশ্যই প্রথম চাওয়া থাকবে ম্যাচটা যেন আমরা জিততে পারি। ওভাবেই আমরা পরিকল্পনা করবো।’
/আরআই/এমআর/