জয়ের জন্য শেষ সাত ওভারে ৭০ রানের প্রয়োজন ছিল পারটেক্সের। প্রাইম ব্যাংকের খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এই সংগ্রহ তাদের জন্য অসম্ভই বটে। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন আলাউদ্দিন বাবু।
ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ আলাউদ্দিন। বৃহস্পতিবার তার ব্যাটিং তাণ্ডবে প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা উড়ে যান। তার খেলা ৩২ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করে পারটেক্স ২ ওভার আগেই ৩ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ফেলে। ব্যাটিংয়ে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের আগে বল হাতে দুই উইকেট নেন আলাউদ্দিন। দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হন তিনি।
বিকেএসপিতে আগে ব্যাটিং করে প্রাইম ব্যাংক ২৯৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে খেলতে নেমে ৫৪ রানে দুই উইকেট হারায় পারটেক্স। তৃতীয় উইকেটে রুবেল মিয়া ও আদিল মিলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। সাব্বির রহমান ৪৩ বলে ৫৩ রান করে আউট হলে জুটি ভাঙে তাদের। এরপর নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারানোর পর ৪৩ ওভার শেষে পারটেক্সের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৩০ রান। তখন ১১ বলে ১৪ রানে ব্যাটিং করছিলেন আলাউদ্দিন। জাতীয় দলের পেসার হাসান মাহমুদকে যেন পাড়ার বোলার বানিয়ে ফেললেন তিনি। মাহমুদের নবম ওভারে ৩ ছক্কা, ২ চারে আলাউদ্দিন তুলে নেন ২৬ রান। শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান। এই রানের জন্য শেষ পর্যন্ত খেলতে হয়নি আলাউদ্দিনকে। চার ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে ৩ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে পারটেক্স। এই ব্যাটার ৩২ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংস।
প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের মধ্যে আরাফাত সানি ও নাজমুল অপু প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া প্রাইম ব্যাংক শুরুটা ভালো করে। দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও সাব্বির হোসেন মিলে ৬১ রান তোলেন। সাব্বির ২৮ রানে আউট হলে জুটি ভাঙে তাদের। এর পরের ব্যাটাররা ভালো শুরু পেলেও কেউই ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। আগের ম্যাচে জয়ে অবদান রাখা শামীম হোসেন ও শাহাদাত হোসেন দিপু আজও হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। শামীমের ৬৯ ও দিপুর ৬৪ রানের ওপর ভর করে প্রাইম ব্যাংক ২৯৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। এছাড়া নাঈম শেখ ৪৬ ও জাকির হাসান ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন।
পারটেক্সের বোলারদের মধ্যে মোহর শেখ ও আলাউদ্দিন বাবু দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট নেন রুবেল মিয়া, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ও আব্দুল গাফফার।