হায়দরাবাদের কাছে হারলেও লড়াই করেছে রাজস্থান

উপলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করে। তাদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের আক্রমণে রাজস্থান রয়্যালস রানপাহাড়ে চাপা পড়লেও লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত। ম্যাচটি ৪৪ রানে হারলেও তাই এখান থেকে ইতিবাচকতা খুঁজে পেতে পারে তারা।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল রাজস্থান। নিজেদের মাঠে হায়দরাবাদ প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্তকে আফসোসে পরিণত করে। অভিষেক শর্মা অল্প সময় থাকলেও আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। ট্র্যাভিস হেডও ছিলেন দুর্নিবার। তার ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিতে ইশান কিষানের রাজকীয় অভিষেকে হায়দরাবাদ ৬ উইকেটে ২৮৬ রান করে।

লক্ষ্যে নেমে ৪.১ ওভারে ৫০ রানের বিপরীতে তিন উইকেট হারায় রাজস্থান। ব্যাটিং অর্ডারে ভাঙন ধরলেও তাদের আগ্রাসী শুরু লড়াইয়ে বড় অবদান রাখে। সাঞ্জু স্যামসন ও ধ্রুব জুরেলের ১১১ রানের জুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে দলটি। অবশ্য তিন বলের মধ্যে দুজনই আউট হন। স্যামসন ৩৭ বলে ৭ চার ও ৪ ছয়ে ৬৬ রান করেন। জুরেল ৭০ রান করেন ৩৫ বলে ৫ চার ও ৬ ছয়ে।

এরপর শিমরন হেটমায়ার ও শুভম দুবের ক্যামিও ইনিংসে হারের ব্যবধানে পঞ্চাশের নিচে আনে রাজস্থান। দুজনে ৮০ রানের জুটি গড়েন, বিচ্ছিন্ন হন ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে। হেটমায়ার ২৩ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৪২ রানে থামেন।

দুবে ১১ বলে সমান বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারিতে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। জোফরা আর্চার শেষ বল খেলে এক রান নেন। রাজস্থান ৬ উইকেটে ২৪২ রানে থামে।

হায়দরাবাদের পক্ষে সিমারজিৎ সিং ও হার্শাল প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন।

ইশানের সেঞ্চুরি উদযাপন

নিজেদের ডেরায় হায়দরাবাদ যেন হিংস্র এক সিংহ! বরাবরের মতো এবারের আইপিএলেও প্রথম ম্যাচ ঘরের মাঠে শুরু করে রান উৎসব করেছে। দলটির হয়ে অভিষেক রাঙিয়ে দিলেন ইশান। প্রথম ভারতীয় হিসেবে হায়দরাবাদের জার্সিতে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। 

গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নিজ মাঠে হায়দরাবাদের রানবন্যার কবলে পড়েছিল। আইপিএলে সর্বোচ্চ ২৮৭ রানের দলীয় স্কোর করেছিল ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। চলতি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এক রানের জন্য নিজেদের গড়া সেই রেকর্ডটা ছুঁতে পারেনি হায়দরাবাদ। এনিয়ে চারবার টি-টোয়েন্টিতে আড়াইশ ছাড়ানো স্কোর গড়েছে হায়দরাবাদ, যা পুরুষদের ২০ ওভারের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ।

অভিষেক নেমেই ঝড় তোলেন। ১১ বলে ২৪ রান করে মাঠ ছাড়েন চতুর্থ ওভারে। হেডও ছিলেন অদম্য। এই ওপেনার ৩১ বলে করেন ৬৭ রান। ৯ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ইনিংস খেলেন তিনি। ইশানের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৮৫ রানের। 

ইশানের সঙ্গে নিতিশ কুমার রেড্ডি ও আইনরিখ ক্লাসেনও ঝড় তোলেন। তাদের জুটি ছিল যথাক্রমে ৭২ ও ৫৬ রানের। নিতিশ ৩০ ও ক্লাসেন ৩৪ রান করেন ১৫ ও ১৪ বল খেলে।

৪৭ বলে ১১ চার ও ৬ ছয়ে ১০৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ইশান। শেষ ওভারে তুষার দেশপান্ডে জোড়া আঘাত না করলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আবারও ভাঙতো হায়দরাবাদ।

আইপিএলে ফিরে এদিন অবাঞ্ছিত রেকর্ড গড়েছেন রাজস্থানের বোলার জোফরা আর্চার। ৪ ওভার বল করে আইপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৬ রান দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মাহিশ থিকশানা ও সন্দীপ শর্মাও পঞ্চাশের বেশি রান দেন।