জো রুটের জমকালো ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরেকটি রেকর্ড। টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার এখন তিনি। লর্ডসে দ্বিতীয় দিনে প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে করুণ নায়ারের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল হাতে জমিয়ে ইংল্যান্ড তারকা পেছনে ফেলেন রাহুল দ্রাবিড়কে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে নিচু ক্যাচ ধরেই বল শূন্যে ছুড়ে দিয়ে তিনি সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মাতেন।
উইকেটকিপারের বাইরে ২১১তম ক্যাচ নিয়ে টেস্টে ক্যাচিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন রুট। তিনি ছাড়া দুইশ ক্যাচ নেওয়া সক্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে এখন আছেন কেবল স্টিভ স্মিথ।
স্লিপে দাঁড়িয়ে যে শৈল্পিক ক্যাচ নেওয়ার পর রুট ফিরে গেলেন ২৫ বছর পেছনে। ফাইন লেগ ফিল্ডার থেকে কীভাবে স্লিপে নিজের অবস্থান পাকা করলেন, শোনালেন সেই গল্প। যার শুরু শেফিল্ড কলেজিয়েট ক্রিকেট ক্লাবে।
লর্ডসে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বিবিসি স্পোর্ট রুটের সেই গল্প শুনেছে। ইংল্যান্ড তারকা বলেন, ‘তখন আমার বয়স ৮ কি ৯ বছর। আমি সাধারণত ফাইন লেগে ফিল্ডিং করতাম। তখন ক্রিকেটে আমার শিক্ষানবিশকাল চলছিল। আপনি যত বেশি খেলবেন, তত বেশি খেলায় জড়িত হওয়ার উপায় খুঁজতে থাকবেন।’
পরের গল্পটা বেশ মজার, ‘খেলায় যেন মনোযোগ ধরে রেখে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারি, সেজন্য সিনিয়র খেলোয়াড়রা জানতে চাইতো, ওভারে কয় বল বাকি আছে। যদি ঠিকটা বলতে পারতাম, তাহলে ২০ পেন্স (পেনি) পেতাম। যদি বেশি সম্পৃক্ত থাকতাম, কী হচ্ছিল বলতে পারতাম, তাহলে এক প্যাকেট ক্রিস্পস ও পপ (চিপস ও কোমল পানীয়) কেনার ব্যবস্থা হয়ে যেতো। এভাবেই এখানে (স্লিপে) জায়গা করে নিলাম।’
যদিও টেস্টে রুটের প্রথম ক্যাচ লং অনে। ২০১৩ সালে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্টে স্টিভেন ফিনের বলে নিউজিল্যান্ডের পিটার ফুলটনের সেই ক্যাচ নিয়েছিলেন। ১২ বছর পর ১৫৬ ম্যাচে ২৯৬ ইনিংসে ভাঙলেন রেকর্ড। দ্রাবিড়ের ২১০ ক্যাচ এসেছে ১৬৪ ম্যাচ ও ৩০১ ইনিংসে!
ক্রিকভিজ-এর বিশ্লেষণে বিবিসি স্পোর্ট বলছে, রুটের অভিষেক হওয়ার পর অন্তত ৭৫ ক্যাচ নিয়েছেন এমন ফিল্ডারদের তালিকায় ক্যাচিং দক্ষতায় তার অবস্থান ছয়ে (৭৬.৮ শতাংশ)। ৮৮.৩ শতাংশ দক্ষতা নিয়ে এই তালিকায় সবার উপরে নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন।
রুট সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ফেলেছেন স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে- ১২ বার। পরের দুর্ভাগা বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। তার বলে ৯ বার ক্যাচ ছেড়েছেন রুট। ক্যাচ ধরতে না পারার অনুভূতিও প্রকাশ করলেন তিনি, ‘ওই সময় এমন লাগে যেন মাটি চিড়ে দুইভাগ হয়ে যাক, আমি ঢুকে পড়ি। এরপর ভালো অনুভূতি পাওয়ার একটাই উপায় থাকে, আরেকটি সুযোগ আসুক এবং সেটা ঠিকভাবে যেন নিতে পারি। একই ভুল যেন দ্বিতীয়বার না করি।’