তৃতীয় টেস্টে লর্ডসে একার লড়াইয়ে দলকে প্রায় অসম্ভব এক জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি নিজে অপরাজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত সঙ্গী না থাকায় ভারতকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। তার লড়াকু ইনিংসের সবাই প্রশংসা করলেও সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা তার অতি সতর্ক ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, আরেকটু ঝুঁকি নিলে দলকে তরী পার করাতে পারতেন তিনি।
সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা জাদেজা অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। ১৯৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে লাঞ্চ বিরতিতেই ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১২ রানে ৮ উইকেট! তার পর মূলত টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাট চালিয়ে গেছেন। জন্ম দিয়েছেন চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাটিং করলেও জাদেজা শেষ পর্যন্ত চায়ের বিরতির পর পর সঙ্গী হারা হলে ১৭০ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস।
৭১ রানে ৫ উইকেট পতনের সময় নামা জাদেজা দলের স্কোর ১১২ রানে ৮ উইকেটে পৌঁছালে নিজেকের পুরোপুরি বাক্সবন্দি করে ফেলেন। আক্রমণত্মক খেলা থেকে নিজেকে সংযত করে মূলত ইংলিশ বোলাদের থেকে জসপ্রীত বুমরা ও মোহাম্মদ সিরাজকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য স্ট্রাইক ধরে রাখার কৌশল নিয়েছিলেন।
কিন্তু ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার সনি স্পোর্টসকে বলেছেন, আরও দ্রুত রান করে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করলে ৬০-৭০ রানের একটি পার্টনারশিপ ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারতো। তার মতে, ‘এই পার্টনারশিপটা ভারত কখনও পায়নি। আপনি বলতে পারেন জাদেজা মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিতে পারতেন, ওপর দিয়ে না মেরে কিছু আক্রমণাত্মক শট খেলতে পারতেন। বিশেষ করে যখন জো রুট ও শোয়েব বশির বল করছিলেন। তার পরেও তাকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
জাদেজা তার ১৮১ বলের ইনিংসে মাত্র ৪টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন। এরপর বশির শেষ ব্যাটার হিসেবে সিরাজকে বোল্ড করলে ২২ রানের জয় পায় ইংল্যান্ড। ভারতের সাবেক ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘আমি তার ইনিংসটাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চাই। একটা শট ছিল ছক্কা- কিন্তু খুব বেশি আক্রমণাত্মক শট তিনি খেলেননি। তিনি যখন ফিফটি করেন এটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। অথচ তখনও ভারতের জয়ের জন্য আরও কিছু রান বাকি। ড্রেসিংরুমে হাততালি পড়ছিল, কিন্তু আমার মনে হয় না তখন কারও মাঝে এই বিশ্বাসটা ছিল যে জাদেজা ম্যাচটা জেতাতে পারবে।’
ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার প্ল্যাটফর্ম এক্সে লিখেছেন, ‘এত কাছে গিয়েও, এত দূরে থেকে গেলো।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘জাদেজা, বুমরা ও সিরাজ শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে। ভালো চেষ্ট ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড চাপ ধরে রেখে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ফল বের করে এনেছে। কষ্টার্জিত জয়ের জন্য ওদের অভিনন্দন।’
এই জয়ে ইংল্যান্ড সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। বাকি আছে আরও দুটি ম্যাচ। ২৩ জুলাই চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।