ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর সভাপতিত্ব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আর সেটা হয়েছে সর্বোচ্চ বয়সসীমা স্পর্শ করায়। বর্তমান সভাপতি রজার বিনি ৭০ বছরে পা দিয়েছেন। আর বিসিসিআই-এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী (যা সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা অনুমোদিত) বোর্ডের একজন পদাধিকারীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭০। ফলে রজার বিনির এই পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত শনিবার (১৯ জুলাই) ৭০ বছর পূরণ করেছেন তিনি।
বিসিসিআই-এর গঠনতন্ত্র (পৃষ্ঠা ৩০) অনুযায়ী, যেকোনও পদাধিকারী ৭০ বছর পূরণ করলেই পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন। সেক্ষেত্রে সহ-সভাপতি অর্থাৎ রাজীব শুক্লার সভাপতি পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা। তবে সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ও বিশ্বকাপজয়ীর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বলা হচ্ছে, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না হওয়া পর্যন্ত বিনি নিজের পদে বহাল থাকতে পারেন এবং এ সময়ের মধ্যে তাকে কোনও আনুষ্ঠানিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করার প্রয়োজন নেই।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে যোগ হয়েছে আসন্ন স্পোর্টস বিল (ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স বিল), যা চলমান বর্ষাকালীন সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন ও পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনটি বিসিসিআইয়ের বর্তমান গঠনতন্ত্রের মতো কঠোর বয়সসীমা অনুসরণ করবে না; যার ফলে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার পদাধিকারীরা ৭৫ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এই বিলটি উত্থাপন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ‘সকল জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের ঊর্ধ্বে’ থাকবে।
এখন পর্যন্ত বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিসিসিআই-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসি বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, ফলে মন্তব্যের জন্য তাদের সাড়া পায়নি ক্রিকবাজ। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
বিনি নিজেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি লন্ডনে লর্ডস টেস্টে যোগ দেওয়ার পর বেঙ্গালুরুতে নিজ শহরে ফিরে আসেন এবং এরপর ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করতে থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে যান। জানা গেছে, তিনি থাইল্যান্ডের একটি দ্বীপে পরিবারসহ ছুটি কাটাচ্ছেন—এতে তার মেয়েরা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা নাতি-নাতনিরাও রয়েছেন।