জাকেরের কাছে ম্যাচ জেতানো ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ

বিপিএলে শেষের দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কুমিল্লাকে শিরোপা এনে দিয়ে নজরে আসেন জাকের আলী অনিক। জাতীয় দলেও পেয়েছেন সুযোগ, তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ছোট ছোট অবদান রাখলেও একা হাতে ম্যাচ জেতাতে পারছিলেন না। অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জাকের খেললেন ৪৮ বলে ৫৫ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস, যা দলকে এনে দিয়েছে সিরিজ নিশ্চিত করা জয়। ম্যাচসেরা হয়ে ডানহাতি ব্যাটার জানালেন, ম্যাচ জেতানো ইনিংস ছাড়া বাকিগুলো তিনি হিসেব করেন না।

জাকের ম্যাচের পর বলেছেন, ‘হ্যাঁ, ম্যাচ জেতানো ইনিংস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া আর কোনও কিছু আমি হিসেব করি না। যতই ভালো খেলি আমি হিসেব করি না। যদি আমার দল না জেতে তাহলে ব্যক্তিগতভাবে আমি সেসব হিসেব করি না। তবে আজকে অবদান রাখতে পেরেছি, হিসেব করলাম।’

বিপিএলে কুমিল্লার জার্সিতে অবলীলায় ছক্কা মারার সামর্থ্য দেখিয়েই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন জাকের। লাল সবুজ জার্সিতেও নিজের সুনাম ঠিকই ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩২ টি-টোয়েন্টিতে ২৮ চারের বিপরীতে মেরেছেন ৩৭ ছক্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষেও দারুণ সব শটে মেরেছেন ৫ ছক্কা। ছক্কা মারার এমন দক্ষতার রহস্য কী জানতে চাইলে জাকের বলেছেন, ‘আমি যেরকম প্রক্রিয়ার মধ্যে অনুশীলন করি ওইরকমই—এগুলো তো আপনারা দেখেনই। অতিরিক্ত অনুশীলনগুলো বাইরে করি। কিন্তু কিছু জিনিস পরিবর্তন করেছি। এগুলো তো দুই বছর আগেই বিপিএলের সময় আমাদের ব্যাটিং কোচের সঙ্গে কাজ করেছি।’

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৮ রানে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। সেখান থেকে শেখ মেহেদীকে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন জাকের। এরপর ছোটো ছোটো আরও কিছু জুটি গড়ে তিনি বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন ১৩৩ রানে।  

লক্ষ্য কী ছিলো এমন প্রশ্নে জাকের বলেছেন, ‘উইকেটে আমার মনে হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ রান করা সম্ভব ছিল যদি আমরা ঠিকঠাক ব্যাটিং করতে পারতাম। কিন্তু আমি ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে ক্যাপ্টেন বলে দিয়েছিলেন যে যেহেতু আমরা শুরুতে উইকেট হারিয়েছি, তাই ১৪০ রানের জন্য এগোতে হবে। শেষের ছক্কাটা হলে হয়ে যেতো।’

১৩৩ রান করেও স্বস্তিতে থাকার কোন কারণ ছিল না বাংলাদেশের। কিন্তু পাকিস্তানের ১৫ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে তাদের শুরুতেই সাইড লাইনে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ফাহিম আশরাফ ও আহমেদ দানিয়েল পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। শেষ দুই ওভারে ২৮ রানের সমীকরণ তারা নামিয়ে এনেছিলেন ১৩ রানে। জাকের জানিয়েছেন, পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে এটা তাদের ধারণায় ছিল, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা এমনই। এরকম ম্যাচ থেকে ফিরে আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। আমরাও ভাবছিলাম যে ওরা ফিরে আসতে পারে। আমাদেরও ভুল ছিল, ফিল্ডিংটা ভালো করতে পারিনি। এই মুহূর্তগুলো হঠাৎ করেই হয়ে গেছে। দল হিসেবে আমরা চাইবো পরেরবার এই জিনিসগুলো আরও ভালোভাবে করতে। তবে সব কৃতিত্ব ওদের প্রাপ্য। ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে, এত বাজে অবস্থা থেকে এই ফাইট দেওয়াটা দারুণ। আমরাও ভালো ক্রিকেট খেলেছি, আমরাও ফাইট করেছি। ফাইট করেই একটা স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছি। দিনের শেষে জয়-পরাজয় বড় কথা, আর আমরা ম্যাচটা জিতেছি।’