বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন দ্রুত আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানিয়ে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কাজ শুরু করেছে। জাতীয় দলের পুলভুক্ত কিছু ক্রিকেটার নিয়ে গত বছর বাংলা টাইগার্স নামের একটি বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প চালু করে বিসিবি। যার সুফলও পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আরও বড় পরিসরে, প্রায় সারা বছর ধরেই অনুশীলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বোর্ডের।
রবিবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপ করেন বাংলা টাইগার্স ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোচ সোহেল ইসলাম। শান্তকে নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এক টেস্টে দুইটা সেঞ্চুরির পর পরের ম্যাচে কেন সে ব্যর্থ হচ্ছে? টানা রান করে যাওয়ার উদাহরণ আমাদের দেশে খুব কম। কিন্তু ভারত বা অন্য দেশগুলোতে প্রচুর উদাহরণ আছে। আমাদের ব্যাটারদের মানসিকতাটা বদলাতে চাই। রান হয়ে গেছে, সেটা ভুলে এবার কীভাবে আবার নতুন করে বড় ইনিংস খেলবে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা এই বিষয়গুলোতে কাউন্সেলিং করছি। কথা বলছি।’
সোহেল ভারতীয় ক্রিকেটারদের উদহারণ টেনে বলেছেন, ‘আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছি, সেটাই মূল বিষয়। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট দেখলে বোঝা যায় কতটা প্রতিযোগিতামূলক। ওখানে একশ-দুইশ রান নিয়মিত ব্যাপার। আমাদের এখানে একটা সেঞ্চুরি হলেই আমরা সেটায় তৃপ্ত হয়ে যাই। কোচ ও মিডিয়াও তখন সেটাকে বড় করে তুলে ধরে। অথচ আমাদের দেখতে হবে- সে রানটা কীভাবে করেছে, কী পরিস্থিতিতে করেছে, কার বিপক্ষে করেছে, ওগুলো কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নতি করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়ানোর বিকল্প দেখেন না সোহেল, ‘আমরা এখনও অনেক সময় এক-দুই ম্যাচ দেখে কাউকে মূল্যায়ন করে ফেলি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন অধিকাংশ ক্রিকেটারের গড় রান ও ধারাবাহিকতা বাড়বে, তখনই মান উন্নয়ন হবে। বড় ইনিংস খেলা ও ধারাবাহিক রান করাটা অভ্যাসের ব্যাপার। কিন্তু সেই অভ্যাসটাই আমাদের নেই।’
সোহেলের মতে ধারাবাহিক হতে টেকনিকের পাশাপাশি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি, ‘কোথায় রান করলাম, সেটা বড় বিষয় না। পরের ম্যাচে নতুনভাবে মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে। কেউ টানা দুই ম্যাচে রান করছে, সে কীভাবে নিজের চিন্তাভাবনা সাজাবে, সেটা নিয়েই আমরা বেশি চিন্তা করছি। আমাদের সংস্কৃতিতে এই ব্যাপারটা ছিল না। কিন্তু শুরু তো করতেই হবে। আমরা সেই ক্ষুধাটা তৈরি করতে চাই, ভেতর থেকে যেন আসে।’