ভারতের এবারের ইংল্যান্ড সফর ছিল তরুণ একটি দল নিয়ে। বিরাট কোহলি কিংবা রোহিত শর্মার মতো তারকা কেউ ছিলেন না। তরুণ অধিনায়ক শুবমান গিলের নেতৃত্বে এই দল যা করেছে, তা আশা জাগানিয়া। ওভালে ৬ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ড্র করেছে তারা, যা জয়ের সমতুল্য। তাতে বড় অবদান কার, এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথম সারিতে থাকবে গিল, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পান্ত, জসপ্রীত বুমরা, রবীন্দ্র জাদেজা ও মোহাম্মদ সিরাজের নাম। তবে তাদের কেউ নয়, কোচ গৌতম গম্ভীরের বিচারে এই সিরিজে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছেন অন্য কেউ।
এই সিরিজে একাধিক রেকর্ড ভেঙে ৭৫৪ রান করেছেন গিল। ৫৩২ রান করেন রাহুল। জাদেজা ৫১৬ রান করার পাশাপাশি নেন ৭ উইকেট। চোট নিয়েও মাঠে নেমে সাহসিকতা দেখানো পান্ত ৪৭৯ রান করেন। শেষ ম্যাচ জয়ের নায়ক সিরাজ নেন ২৩ উইকেট। কিন্তু ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ়ের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে গম্ভীর বেছে নিয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দরকে।
ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে গম্ভীর বলেন, ‘যেভাবে আমরা সিরিজ়টা ২-২ ড্র করলাম, সেটা দুর্দান্ত। অসাধারণ ফলাফল। সকলকে অভিনন্দন। একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পারফরম্যান্স ক্রমশ ভাল হয়েছে। সকলে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ধারাবাহিকভাবে আমরা উন্নতি করতে পেরেছি। আমরা এ ভাবে চালিয়ে যেতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে দাপট দেখাতে পারব। অনেকে আসবে, যাবে। কিন্তু সাজঘরের এই সংস্কৃতি, মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। যাতে সকলে এই সংস্কৃতির অংশ হতে চায়, আমরা তেমনই একটা আবহ তৈরি করতে চাই। সকলের জন্য শুভকামনা থাকল। সবাই সময়টা নিজের মতো করে উপভোগ করো। তোমরা দিন দুয়েক সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে পারো। তোমরা এই বিরতির যোগ্য। তোমরা যা অর্জন করেছ, তাতে বিরতি প্রাপ্য। অভিনন্দন।’
এরপর জাদেজা অলরাউন্ডার ওয়াশিংটনের গলায় পরিয়ে দেন সিরিজ়ের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের পদক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার টেস্টে ৪৭.৩৩ গড়ে ২৮৪ রান করেছেন ওয়াশিংটন। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতে নিয়েছেন ৭টা উইকেট।
এই পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। এই সফরে চার ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। ইংল্যান্ডের মাটিতে সবসময় ভালো পারফর্ম করার কথা ভাবতাম। দলের জন্য সেরাটা দিতে চেয়েছি সবসময়। এখানে আমরা প্রতি দিন দুর্দান্ত লড়াই করেছি। দুর্দান্ত প্রাণশক্তি ছিল সকলের মধ্যে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- ক্রিকেটের তিন বিভাগেই আমরা লড়াই করেছি। সকলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময়ে পরস্পরের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সকলে ধন্যবাদ।’