তার মতো বয়সে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখা শুরু করেন ক্রিকেটাররা। সেই জায়গায় ৩৯ বছর বয়সে আবারও জাতীয় দলে টেস্ট খেলার জন্য ফিরেছেন জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। মূলত আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ও অ্যান্টিডোপিং বিধি লংঘনের দায়ে সাড়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল তাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন করে ইনিংস শুরু করছেন। জন্ম দিয়েছেন আলোচনার। দলে যুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের একাদশেও ফিরেছেন তিনি।
টেইলর ২০২১ সালের আকস্মিক অবসর ঘোষণার পর কোনও পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেননি। তার পরই জানা যায় আসল কারণ। নিষেধাজ্ঞার ধরণের কারণে তিনি ঘরোয়া কিংবা জাতীয় যে কোনও পর্যায়ে সুযোগ সুবিধা গ্রহণের উপযুক্ত ছিলেন না। চার মাস পর জানান, আইসিসি দুর্নীতি দমন আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ভাঙায় বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি তিনি। পাশাপাশি ড্রাগ পরীক্ষাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। তার পর পরই জানা যায় নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক খবর!
টেইলরের ফেরার ম্যাচে আজ বুলাওয়েতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। তিনি একাদশে এসেছেন বেন কারানের জায়গায়। নেমেছেন ওপেনিংয়ে।
নিষেধাজ্ঞার পর নিজের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আজ সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানকে টেইলর জানিয়েছেন, ‘শাস্তির মুখোমুখি হওয়া, নিজের ভেতরের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে লড়াই করা—এর কোনও নির্দিষ্ট দিন ছিল না, অনেকগুলো দিন একেকটা ট্রমার মতো কেটেছে। এক অন্ধকার খাদে পড়ে যাওয়া, আর সেখান থেকে জীবনের এই সম্পূর্ণ ও অদৃশ্যমান ভেঙে পড়ার অনুভূতির মধ্য দিয়ে কেবল টিকে থাকার চেষ্টা করছিলাম। সেটা ছিল ভীষণ কঠিন। সবসময় একটা লজ্জা আর অপরাধবোধ ছিল—পরিবারকে নিরাশ করার। এটা সামলানো অনেক কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আমার পরিবার যেভাবে পাশে থেকেছে, সাহায্য করেছে—তা ছিল অভূতপূর্ব। মাঝে মাঝে আফসোস হয়, কেন আরও আগেই তাদের ওপর ভরসা করিনি।’
তিনি আরও জানান, ‘কিন্তু তখনও মনে হয়েছিল, এটা আমার নিজের ভুল এবং নিজেকেই ঠিক করতে হবে। ভেবেছিলাম স্বপ্নটা শেষ হয়ে গেছে এবং সেটাই মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে নিজেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ আর আশ্বাস এসে ধরা দেয়, যা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি যদি সেই জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না নিতাম, তাহলে আজকের এই কিছুই সম্ভব হতো না।’