রিজানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের যুবারা

আফ্রিকা সফর দারুণভাবে শেষ করলো বাংলাদেশের যুব দল। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর জিম্বাবুয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও তাদেরকে হারালো আজিজুল হাকিমের দল। রিজান হোসেনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রবিবার হারারেতে ৩৩ রানে জিতে ট্রফি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এই অলরাউন্ডার সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ মুছে ফেলেন বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে।

৫ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৭০ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। রিজান ইনিংস সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন। তারপর ৮.৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে ২৩৬ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা।

লক্ষ্যে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ষষ্ঠ ওভারে সানজিদ মজুমদারকে তিন চার ও এক ছয় মেরে ১৯ রান তোলে। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙে দেন আল ফাহাদ। অষ্টম ওভারের শেষ বলে আদনান লাগাডিয়েনকে ৪০ রানে (৩১ বলে ৭ চার ও ১ ছয়) আজিজুল হাকিমের ক্যাচ বানান। ৫৯ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

ফাহাদ তার পরের ওভারে আরেক ওপেনার জোরিশ ফন শ্যালভিককে (১৯) বিদায় করেন।

৬৬ রানে ২ উইকেট হারানো প্রোটিয়ারা ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক মুহাম্মেদ বুলবুলিয়া ও জ্যাসন রোলেসের জুটিতে। ২১তম ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে দেন রিজান। ৪৫ রানে তাদের আলাদা হতে হয়। বুলবুলিয়া ৪৩ বলে ৩ চারে ৩১ রান করেন।

প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া রিজান দ্বিতীয় আঘাত করে তার চতুর্থ ওভারে। আরমান মানাককে (৮) থামান তিনি। 

আরেক সেট ব্যাটার রোলেস (৩৫) স্বাধীন ইসলামের শিকার হন। ড্যানিয়েল বসমানকে (৮) ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেট পান ফাহাদ। ১৬৪ রানে পল জেমসকে (১৪) সপ্তম শিকার বানায় বাংলাদেশ।

সহজ জয়ের আভাস পেলেও ব্যান্ডাইল এমবাথা ও এন্তান্দো সনির জুটিতে বাংলাদেশ প্রতিরোধের মুখে পড়ে। বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের জুটি।

শেষ পর্যন্ত ৫৯ রান যোগ করে সনি (৩৪) রিজানের শিকার হন। পরের ওভারে ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসার এমবাথাকেও (২৯) আউট করেন। দুই ওভার মিলিয়ে টানা দুটি উইকেট নেন রিজান। ওই ওভারেই বায়ান্ডা মাজোলাকে বোল্ড করে ৫ উইকেটের দেখা পান তিনি।

এছাড়া ফাহাদ তিন উইকেট নেন। স্বাধীনের পকেটে গেছে দুটি উইকেট।

হারারেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে টপ অর্ডারের ব্যাটাররা ব্যর্থ। তবে মিডল অর্ডারে কালাম সিদ্দিকী ও রিজানের হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে বাংলাদেশ।

ওপেনিং জুটিতে জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ ৪১ রান তোলেন। দশম ওভারে রিফাত (১৬) আউট হলে এই জুটি ভাঙে। তারপর ৬৫ রানের মধ্যে জাওয়াদ (২১) ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম (৭) আউট হন।

কালাম ও রিজান ১১৭ রানের জুটিতে ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন। কালাম ৭৫ বলে ৬৫ রান করেন ১০ চারে। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়ে সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন রিজান। কিন্তু পারেননি। ৪৮তম ওভারে মাত্র ৫ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। ৯৬ বলে ১০ চারে ৯৫ রান করেন তিনি।

রিজানের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়া আব্দুল্লাহ ২৯ বলে ৩৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন সামিউন বাসির।

বাংলাদেশের ৫ উইকেটের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন ব্যান্ডাইল এমবাথা।