বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসর শেষ হওয়ার পর থেকে চিটাগং কিংস ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি ঘিরে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন। এ অবস্থায় এক বিবৃতির মাধ্যমে সবকিছু পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, চিটাগং কিংসের মালিক প্রতিষ্ঠান এস.কিউ. স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড বিপিএলের প্রথম (২০১২) ও দ্বিতীয় (২০১৩) এবং সর্বশেষ আসরের বকেয়া পরিশোধে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই নিয়ে দুপক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে চিটাগং কিংসের ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বাতিলের ঘোষণা দেয় বিসিবি। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনার প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নামার কথাও জানিয়েছে তারা।
প্রথম দুই আসর শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিসিবির পাওনা ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। একাদশ আসরে অংশ নেওয়ার আগে সাড়ে তিন কোটি টাকার দেনা শোধ করার স্বার্থে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব পেয়েছিল তারা। শেষ আসরেও অর্থনৈতিক লেনদেন স্বচ্ছতা আনতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে একাধিক নোটিশ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিও করা হয়।
তবে সেই চুক্তি অনুযায়ী এস.কিউ. স্পোর্টস একটি অর্থও পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে মূল বকেয়া ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৪ ডলার এবং ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সুদ জমে ২২ লাখ ৩২ হাজার ৯২ ডলার হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, আগের মতো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগ আর নেই। গত ২২ জুলাই দেওয়া নোটিশে সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন করে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ১৫৬ ডলার (প্রায় ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা) পাওনা দাবি করেছে বিসিবি। তবে সর্বশেষ লিগ্যাল নোটিশ অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির আর এই অঙ্ক পরিশোধের যোগ্যতা নেই। তারই ধারাবাহিকতায় এলো চুক্তি বাতিলের এ সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি বিসিবি জানিয়েছেন এই প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেতে আইনি পথে এগোবে তারা।
এদিকে গত রবিবার ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন বিপিএলের সবশেষ আসরের রানার্সআপ দল চিটাগং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সামির কাদের চৌধুরী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘মজার বিষয় হলো এই ফিগারটা ৪৬ কোটি টাকার। এটা না ওনাদের (বিসিবি) কাছে কোনও জবাব আছে, না আমার কাছেও কোনও জবাব আছে। কিন্তু বাজারে ঘুরছে ৪৬ কোটি টাকার কথা। এই ফিগারটা কোথা থেকে আসছে এটা কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছেও এটা আপনাদের সামনে হয়তোবা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, এটার কোনও উত্তরই নেই। আমার কাছেও নেই। ২০১৮ সালে বিসিবি বকেয়ার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে স্টে-অর্ডার নিয়েছিল, ফারুক আহমেদের (সাবেক বিসিবি সভাপতি) সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয় যে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দিতে হবে, এখন সেটা ৪৬ কোটি কীভাবে হলো এটা বিসিবিও জানেনা, আমার সঙ্গে বসতে রাজি হয়েছে তারা।’