ক্রিকেটের দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশ ছাড়া করতে চান মার্শাল

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ফিক্সিং ও দুর্নীতির ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের পরামর্শক হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন অ্যালেক্স মার্শাল। সোমবার রাতেই তিনি ঢাকায় পৌঁছান এবং মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেন। একই দিনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে মার্শাল জানিয়েছেন, ইন্টিগ্রিটি ইউনিট তৈরি করে ক্রিকেটের দুর্নীতি দূর করতে ভূমিকা রাখবেন।

বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে নিজের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন মার্শাল। তার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে (অ্যান্টি করাপশন ইউনিট) নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। মঙ্গলবার নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে ফিক্সার ও দুর্নীতিবাজদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন আইসিসিতে কাজ করা মার্শাল।   

বিপিএলসহ বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ফিক্সিং রোধে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মার্শাল বলেছেন, ‘আমি এখানে আসার কারণ হলো সভাপতি এবং বোর্ডের সঙ্গে কাজ করে একটি ইন্টিগ্রিটি ইউনিট তৈরি করা যা খেলাটিকে বিভিন্ন হুমকি থেকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন প্রায় এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে ক্রিকেটের শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করার সঠিক সময় যে মাঠে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা যেভাবে খেলছে বাইরের সমস্ত হুমকি থেকে সঠিকভাবে সুরক্ষিত এবং ভক্তরা সেই বিশ্বাস থেকেই খেলাটি মাঠে বসে দেখছে।’ 

মার্শাল আরও বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করবো যে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়, দেশের জন্য খেলা নারী এবং পুরুষরা সঠিকভাবে সুরক্ষিত। আমি আজ সভাপতি এবং সিইও এবং বোর্ডের কিছু সদস্যের সঙ্গে দেখা করেছি। খেলাটি সুরক্ষিত রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে তারা সমর্থন করছে।’ 

সর্বশেষ বিপিএলেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। আইসিসির সাবেক এই কর্মকর্তা বাংলাদেশে যোগ দিয়েই ক্রিকেট দুর্নীতি রোধ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন, ‘এজন্য আমরা একটি ইন্টিগ্রিটি ইউনিট তৈরি করবো। এবং এর লক্ষ্য হলো সবাইকে নিশ্চিত করা যেন তারা বুঝতে পারে হুমকি কেমন, তাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করা, তাদের নজর বাড়ানো এবং তাদের ও দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা চাই, সেসব দুর্নীতিবাজরা যেন বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। ইন্টিগ্রিটি ইউনিট একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাবে যে বাংলাদেশে এই খেলাটি পরিষ্কার থাকবে এবং বোর্ড ও সভাপতি সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছেন।’ 

আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান হিসেবে ৭ বছর কাজ করেছেন মার্শাল। তিনি বেশ ভালো করেই জানেন ফিক্সারদের প্রধান নজর এখন বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। বিশেষ করে যেসব লিগ মানদণ্ডে অনেকটা পিছিয়ে তাদেরকেই জুয়ারিরা লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তাই এ নিয়ে কাজ করতে চান মার্শাল, ‘যেকোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বড় হুমকি হচ্ছে যখন তাতে দুর্বলতা দেখা যায়। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পেশাদারভাবে না চললে ও যথেষ্ট নিরাপত্তাবেষ্টিত না হলে এটাকে দুর্নীতিবাজেরা লক্ষ্য বানাবেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে বিপিএলের যেন এমন ভাবমূর্তি না থাকে। যেভাবে টুর্নামেন্ট চলে, ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হয়- নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবকিছুই চূড়ান্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে সামলাতে হবে।’