লিজেন্ডের মর্যাদা পেলেন বেলিন্ডা ক্লার্ক 

স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া ‘হল অব ফেমে’ আগেই জায়গা পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের সাবেক অধিনায়ক বেলিন্ডা ক্লার্ক। এবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে‘লিজেন্ড’ মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান, কিথ মিলার, রিচি বেনো, ডেনিস লিলি এবং শেন ওয়ার্নের পর ক্লার্ক হলেন ষষ্ঠ ক্রিকেটার যিনি এই সম্মান পেলেন। হল অব ফেম জানিয়েছে, এই মর্যাদা প্রদান করা হয় খেলাধুলায় “অসাধারণ কৃতিত্ব, দীর্ঘস্থায়িত্ব, দৃঢ়তা এবং আজীবন অবদানের” স্বীকৃতিস্বরূপ।

ক্লার্ক ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (১৯৯১ থেকে ২০০৫) ওয়ানডেকে ৪৭.৪৯ এবং টেস্টে ৪৫.৯৫ গড়ে রান করেছেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে অধিনায়ক নিযুক্ত হন অস্ট্রেলিয়ার। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন টানা ১১ বছর।

ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ১০১ ওয়ানডের মধ্যে ৮৩টিতে জিতেছে এবং জিতেছে দুটি বিশ্বকাপ। ১৫টি টেস্টের মধ্যে তিনি ১১টিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ক্লার্কই প্রথম ক্রিকেটার যিনি ওয়ানডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে তিনি অপরাজিত ইনিংস খেলেন ২২৯ রানের।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্লার্ক মাঠের বাইরেও নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসক এবং আইসিসি নারী ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিংবদন্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে ক্লার্ক বলেছেন, ‘স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে লিজেন্ড মর্যাদা পাওয়া অবিশ্বাস্য সম্মান। আমি একই সঙ্গে বিস্মিত, কৃতজ্ঞ ও গর্বিত বোধ করছি। আমি দলীয় খেলোয়াড় ছিলাম, বাস্তবতা হলো—আমাদের কেউই পুরো দলের সমর্থন ও অঙ্গীকার ছাড়া কিছু অর্জন করতে পারি না। আমি আশা করি আমার সতীর্থ, কোচ, সহায়ক কর্মী এবং প্রশাসন এই স্বীকৃতির অংশ মনে করবেন। পেশাগতভাবে আমি গর্বিত, কারণ খেলা এখন যেদিকে যাচ্ছে তা অনন্য। সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। এখনও কিছুটা পথ বাকি, তবে আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।’

২০২৩ সালে ক্লার্কের অবদানের জন্য সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অন্যান্য কিংবদন্তিদের সঙ্গে স্থাপন করা হয় তার ভাস্কর্য। এছাড়াও তার নামে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস পদক প্রবর্তন করেছে, যা তার অবদানকে অমর করে রেখেছে।