ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত সিরিজটি বাতিল হওয়ায় এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতির একটি বড় সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এশিয়া কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করতে হলে ম্যাচ খেলার অভ্যাস, দলের কম্বিনেশন তৈরি এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব জরুরি ছিল। ভারত না খেলায় এশিয়া কাপের প্রস্তুতিমূলক সিরিজ খেলার জন্য ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসকে ডেকে আনলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এশিয়া কাপ শুরুর আগে ডাচদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টেলিভিশন।
যে কোনও ফরম্যাটে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফর করছে নেদারল্যান্ডস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই সিরিজকে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। শক্তি এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির দিক থেকে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সিরিজে স্পষ্টভাবে ফেভারিট বাংলাদেশ।
২০১২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেদারল্যান্ডসের কাছে কোনও ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রেকর্ড পক্ষে থাকার পরও এই সিরিজকে হালকাভাবে নিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখানে কোনও বড় বা ছোট দল নেই। কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে আমরা আমরা সেটি করবো। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’
এদিকে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানিয়েছেন এশিয়া কাপ মনের কোণে থাকলেও তাদের মূল লক্ষ্য সিরিজ জয় নিশ্চিত করা, ‘চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় পৌঁছাতে হলে তো আগে প্রাথমিক পর্ব উতরাতে হয়। কাজেই এশিয়া কাপ নিয়ে আমি ভাবছি না। এশিয়া কাপ আসবে এটির পরে। এটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ। আমাদের মনোযোগও এই সিরিজে।’
বাংলাদেশের কোচ-অধিনায়ক ডাচদের সমীহ করলেও প্রতিপক্ষ দলের প্রধান কোচ রায়ান কুক অবশ্য হুংকারই দিলেন। একটা সময় বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। লিটনদের হারাতে তারা বড্ড আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বকাপ নিয়ে খানিকটা খোঁচাও দিয়েছেন তিনি। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ।
সেই প্রসঙ্গ টেনে কুক বলেছেন, ‘অবশ্যই, তাদের খুব ভালো খেলোয়াড় আছে এবং ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। তাই আমাদের ছেলেদের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কিন্তু আমরা যদি মনে করতাম আমরা জিততে পারবো না, তাহলে আমরা এখানে আসতাম না। বিশ্বকাপেও আমরা তাদের সঙ্গে থাকবো। আমরা যদি একই গ্রুপে পড়ি তাহলে আমরা তাদেরকে হারাতে চাইবো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের যা আছে সেটা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে হারাতে পারবো।’