টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে গুলবাদিন নাইবের বিধ্বংসী হাফসেঞ্চুরি এবং মুজিব উর রহমানের জোড়া আঘাতে শঙ্কা জেগেছিল নিউজিল্যান্ড শিবিরে। কিন্তু টিম সেইফার্টের ঝড়ো ব্যাটিং ও গ্লেন ফিলিপসের আক্রমণাত্মক ইনিংসে সেই ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড।
‘গ্রুপ অব ডেথ’খ্যাত এই গ্রুপে চেন্নাইয়ে শুরুতে ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তান তোলে ৬ উইকেটে ১৮২ রান। ৩৫ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ইনিংসের ভিত গড়েন গুলবাদিন নাইব। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছয়। কিউইদের হয়ে ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন লকি ফার্গুসন। মূলত নাইব-অটলের তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটিই বড় পুঁজি পেতে অবদান রাখে। অটলের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৯।
তার পর জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা কিউইদের ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাচের রং বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। মুজিব উর রহমান টানা দুই বলে ফিরিয়ে দেন ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্রকে। তখন কঠিন চাপে পড়ে কিউই দল। হ্যাটট্রিক বলটি নিরাপদে সামলে নেন গ্লেন ফিলিপস। এরপর সেইফার্টকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ওপর ছড়ি ঘোড়ান তারা। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৪৭ বলে ৭৪ রানের জুটিতেই ম্যাচ পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে আসে।
২৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রানের ইনিংস খেলা ফিলিপস আউট হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তার পর দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন সেইফার্ট। শেষ পর্যন্ত ভিত গড়ে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৫ রানে আউট হয়েছেন তিনি। জয়ের পথে অবদান রেখে ১৭ বলে ২৮ রানে আউট হন মার্ক চ্যাপম্যানও। বাকি দায়িত্বটা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সামাল দেন ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। তাদের ১৩ বলে ২৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৭.৫ ওভারে নিউজিল্যান্ড জয় নিশ্চিত করে। ১৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন মিচেল। স্যান্টনার ৮ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে। এটি তাদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজির! আগের সর্বোচ্চটি ছিল ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১৬৭ রান।
আফগানদের হয়ে ৩১ রানে দুটি উিইকেট নেন মুজিব উর রহমান।