জাদরান-নবীর নৈপুণ্যে জয়ে বিশ্বকাপ শেষ আফগানিস্তানের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান-কানাডা ম্যাচটা ছিল ডেড রাবার। দু’দলেরই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে শেষটা স্বস্তিতে করার তাগিদ ছিল আফগানদের। কারণ, নবীদের কোচ হিসেবে এটাই ছিল জনাথন ট্রটের শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচটা জিতে তাকে বিদায় উপহার দিয়েছে আফগান দল। কানাডাকে হারিয়েছে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে। টুর্নামেন্টে এটি ছিল আফগানদের দ্বিতীয় জয়। 

ব্যাট হাতে আলো ছড়ান ইব্রাহিম জাদরান। ৫৬ বলে ৯৫* রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি। বল হাতে জয়ের মঞ্চ গড়েন মোহাম্মদ নবী। ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। 

২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে কানাডা। শিশিরের বিষয়টি মাথায় রেখে অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সিদ্ধান্তটা যদিও ভুল ছিল না। কিন্তু আফগানিস্তানের ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি তারা। দুটি সহজ ক্যাচ মিসের খেসারত গুণতে হয়েছে ৬২ রান দিয়ে।

রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৭ রানে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল দ্বিতীয় ওভারেই। কিন্তু উইকেটকিপার শ্রেয়াস মভা সহজ ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। পরে জাসকারান সিং চার বলের ব্যবধানে গুরবাজ (৩০) ও গুলবাদিন নাইবকে (১) ফিরিয়ে পাওয়ারপ্লের শেষে কিছুটা স্বস্তি আনেন। তার পরও ফিল্ডিংয়ের আরেকটি ভুলে আফগানিস্তান বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায়। ৫৪ রানে লং-অনে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ ফেলেন কলিম সানা। মাঝের ওভারে সেদিকুল্লাহ অটল ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে জাদরানকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন। ৩৩ বলে নিজের ১৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূরণ করেন জাদরান। তার পর অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। তার ব্যাটে ভর করেই আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২০০।  যা তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় রান।

জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কানাডা। মাঝের দিকে হর্ষ ঠাকের (৩০) ও সাদ বিন জাফর (২৮) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও আফগানিস্তানকে চাপে ফেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১১৮ রানে থামে দলটির ইনিংস।