কলম্বোর বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরে পৌঁছাতে সময় লাগে বেশ। তবে শহরে ঢুকলেই বোঝা যায়, চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উন্মাদনা। রাস্তার দুই পাশে খেলোয়াড়দের বিলবোর্ড, টুর্নামেন্টের লোগো সংবলিত পতাকা—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। ক্রিকেট নেশন হিসেবে পরিচিত শ্রীলঙ্কায় খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা আকাশছোঁয়া।
তবে এবারের বিশ্বকাপে এক ধরনের অপূর্ণতা বোধ করছেন অনেক লঙ্কান সমর্থক। নিজেদের দল সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ায় যেমন হতাশা আছে, তেমনি বাংলাদেশ না থাকাতেও আক্ষেপ তাদের কণ্ঠে।
কলম্বোর আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র। অল্প হাঁটলেই ঘাম ঝরে। কয়েক বছর আগে রাজাপাকসে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লড়ছে দেশটি। তবু শহরের সড়ক, সুউচ্চ ভবন কিংবা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেই সংকটের ছাপ তেমন চোখে পড়ে না। ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা চোখে পড়ার মতো। রাস্তা ফাঁকা থাকলেও ডিজিটাল সিগন্যাল মানছেন চালকেরা। শহরময় ছোট তিন চাকার টুকটুক (তিন চাকার বাহন, অনেকটা বাংলাদেশের সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার) ঘুরে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যায় রাস্তার আইল্যান্ডে গাছ ছাঁটার দৃশ্যও নজরে আসে। ঝকঝকে-পরিচ্ছন্ন এক শহর কলম্বো।
তিনি বিশেষ করে মুশফিকুর রহিমের খেলা অনুসরণ করেন। প্রিয় ক্রিকেটারের কথা এভাবেই বলেছেন তিনি, ‘মুশফিককে আমার বেশ পছন্দ। সুযোগ পেলে পুরো বাংলাদেশ দলের খেলা দেখি।’
শ্রীলঙ্কা শুরুতে টানা তিন জয়ে উজ্জীবিত থাকলেও পরবর্তীতে ছন্দ হারিয়ে সুপার এইট থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নেয়। এ নিয়ে মন খারাপ উপলের, ‘ভালো খেলতে খেলতেই বিদায় নিতে হলো। কষ্ট তো লাগেই, তবে কিছু করার নেই।’
এরপরই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘মোস্তাফিজকে আইপিএলে নিয়ে আবার বাদ দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। এরপর বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট করাটাও ঠিক হয়নি। খেলা উচিত ছিল।’
নিজ দেশের ক্রিকেটের চেহারা আগের মতো নেই। এ নিয়ে কষ্ট আছে ডিলানের, ‘আমাদের ক্রিকেটে উত্থান পতন চলছে। সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে কিংবা জয়াসুরিয়ার মতো খেলোয়াড় উঠে আসছে কমই। এ নিয়ে ভাবলে মাঝে মধ্যে খারাপ লাগে। আশায় আছি, সামনের দিকে হয়তো আগের মানের ক্রিকেটার উঠে আসবে।’
কলম্বোর বাসিন্দা মোহাম্মদ মিরাজ পেশায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ খেললে পর্যটকও বাড়তো, ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে পর্যটক বেড়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে তো উপচে পড়া ভিড় ছিল। তবে বাংলাদেশ থাকলে আরও বেশি সমর্থক আসতো।’
বিশ্বকাপে টাইগাররা নেই, কিন্তু লঙ্কান সমর্থকদের আলোচনায় ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।