পাকিস্তানকে ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে হারানোর স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে জয়ের পেছনে মূল কারিগর পেসার নাহিদ রানা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন। হয়েছেন ম্যাচসেরাও। ম্যাচের পর জানিয়েছেন, শুধু গতির ওপর নির্ভর না করে নিজের দক্ষতা উন্নয়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
বুধবার আট উইকেটের জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ। ইনিংসের প্রথম পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে নতুন কীর্তিও গড়েছেন তিনি। সাধারণত ধীরগতির উইকেট হিসেবে পরিচিত মিরপুরের মাঠে সেদিন দুর্দান্ত স্পেল উপহার দিয়েছেন। তুলে নেন সাহেবজাদা ফারহান (২৭), শামিল হুসেইন (৪), মাজ সাদাকাত (১৮), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০) ও সালমান আগার উইকেট। তাতে ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে রানা নিজের সেই পারফরম্যান্স নিয়ে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি গতি নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির চেয়ে দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি আমার স্কিল উন্নত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।’
তিনি জানান, বোলিংয়ের সময় সিনিয়র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদও তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘শুরুর দিকে ফিজ ভাই ও তাসকিন ভাই বোলিং করছিলেন। উইকেটের আচরণ কেমন—সেটা নিয়ে আমি মাঠেই তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলেছিলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় সঠিক লাইন ও লেন্থে বল করতে পারলে ব্যাটারদের জন্য খেলাটা কঠিন হয়ে যায়। আমি মাঠে সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’
রানা মনে করেন, বাংলাদেশে আরও স্পোর্টিং উইকেট হলে তা খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তার ভাষ্য, ‘উইকেট যদি স্পোর্টিং হয়, তাহলে ব্যাটার ও বোলার—দু’পক্ষেরই দক্ষতা বাড়ে। আমাদের দেশে যদি এমন উইকেট বেশি পাওয়া যায়, তাহলে বিদেশে গিয়ে একই ধরনের উইকেটে খেলতে অচেনা লাগবে না। ঘরের মাঠে স্পোর্টিং উইকেটে খেললে বিদেশের একই পরিস্থিতিতে খেলাটাও সহজ মনে হবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে—সেটা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।’