বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গতকাল মিরপুরে সফরকারী পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা সিরিজে ১–১ সমতা ফেরালেও ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পাকিস্তান ব্যাটার সালমান আলী আগার রানআউট! অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের করা সেই রানআউট প্রসঙ্গ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও জায়গা করে নেয়।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেছেন, বাংলাদেশ যা করেছে তা পুরোপুরি নিয়মের মধ্যেই ছিল, ‘প্রথমত, কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি; এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।’
পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে ঘটনাটি ঘটে। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের কাছে বল ধরতে গিয়ে আগা ও মিরাজ দুজনেই দৌড়ে যান। এ সময় আগা বলটি তুলে নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ককে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি ক্রিজের বাইরে অবস্থান করায় মিরাজ আগেই বলটি তুলে নিয়ে সরাসরি স্টাম্পে থ্রো করেন। তার পর তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাকে রান-আউট ঘোষণা করেন। আউট হওয়ার পর ডানহাতি ব্যাটার আগা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাত উঁচু করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। হেলমেটও ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ দলের কয়েকজন ফিল্ডারও সেখানে জড়ো হন। বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়েও জড়ান সালমান। তাদের একজন ছিলেন লিটন দাস।
আগার সেই রান আউটে ভেঙে যায় রিজওয়ানের সঙ্গে তার ১০৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। এর মাত্র দুই বল পর ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রিজওয়ানও। তখন হাফসেঞ্চুরি থেকে ছয় রান দূরে ছিলেন।
সালমানের মাঠ ছাড়ার সময় পাকিস্তানের ধারাভাষ্যকার রমিজ রানা বলছিলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এটি আউট হলেও এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাটারটি বোলারকে সাহায্য করতে গিয়েছিল। এভাবে রানআউট হবে, সে আশা করেনি।’
তবে লিটন বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে কারও ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে, কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে বিতর্কের কোনও সুযোগ নেই। লিটনের মতে, ‘যেহেতু আউটটি নিয়মের মধ্যেই হয়েছে, তাই কোনও দিক থেকে মনে করি না স্পোর্টসম্যানশিপ ক্ষুণ্ন হয়েছে। সবার নিজস্ব মত থাকতে পারে। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমরা মনে করেছি—আউট মানেই আউট।’